দৈনিক আলাপন

নীলফামারীর পুরনো কারাগারের মালামাল পাচারের চেষ্টা



নীলফামারীর পুরনো কারাগারের মালামাল পাচারের চেষ্টা

নীলফামারী শহরের পুরনো কারাগারের ইট, লোহা ও কাঠসহ মূল্যবান সম্পদ প্রতিনিয়ত চুরির অভিযোগ নিয়ে শহর জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারী কোনো প্রকার টেন্ডার কিংবা নিলাম ছাড়াই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নামে অধিযাচনকৃত করা ট্রাকে করে এসব মালামাল সরিয়ে নেওয়ার সময় হাতেনাতে মিলেছে চুরির সত্যতা।

গত বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে নীলফামারীর পুরনো কারাগার চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, টেন্ডার বা প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়াই একটি অধিযাচনকৃত ট্রাকে (পাবনা-ট-১১-০৫৫৬) ইট বোঝাই করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে ট্রাক ড্রাইভার মোঃ শামিম জানান, ট্রাফিক সার্জেন্ট রাস্তা থেকে তাঁর ট্রাকটি সরকারি কাজের কথা বলে অধিগ্রহণ করেন। গাড়িটি কেন এবং কোথায় ব্যবহার হচ্ছে সে বিষয়ে তাঁর সুস্পষ্ট কোনো ধারণা ছিল না। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ট্রাফিক সার্জেন্ট সাদেকুর রহমান সুজন জানান, চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের বডিগাড ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা তাঁকে একটি ট্রাক অধিযাচন করে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। সেই অনুযায়ী তিনি গাড়িটি অধিযাচন করে দেন। এক কর্মকর্তা থেকে অন্য কর্মকর্তার ওপর দায় চাপানোর এই প্রক্রিয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

দাপ্তরিক নথিতে দেখা যায়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নেজারত শাখা থেকে গত ২ সেপ্টেম্বর ‘অস্থাবর সম্পত্তি হুকুম দখল আদেশ’-এর মাধ্যমে গাড়িটি অপরাধ দমন ও আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের অজুহাতে রিকুইজিশন করা হয়েছিল। তবে রিকুইজিশন করা একটি গাড়ি কীভাবে টেন্ডার ছাড়া সরকারি স্থাপনার মালামাল পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছে তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ঘোর ধোঁয়াশা।

গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পরিত্যক্ত এই কারাগারের মালামাল নিলামের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ইতিপূর্বেও এই পুরনো ভবন থেকে বিপুল পরিমাণের ইট, লোহা ও অন্যান্য সরঞ্জাম চুরির ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ বুলবুল আহমেদ নীলফামারী সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১১১৯, তাং- ২০/০৪/২০২৬) দায়ের করেছিলেন। সাধারণ ডায়েরিতে উল্লেখ করা হয়েছিল, চীফ জুডিশিয়াল আদালত ভবন নির্মাণের জন্য পুরানো কারাগার ভাঙ্গার কাজ চলার সময় নিলামে বিক্রি না হওয়া বেশ কিছু ইট ও সরকারি সম্পত্তি সেখান থেকে গায়েব হয়ে যায়। বারবার চুরি ও সাধারণ ডায়েরি করার পরও ফের সরকারি ভাবে রিকুইজিশন করা গাড়ি ব্যবহার করে এভাবে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চোর চক্র ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর। এবিষয়ে নীলফামারী চীফ জুডিশিয়াল আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ সোহেল শাহকে তার মুঠোফোনে একাধিক বার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

নীলফামারী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সাকিউজ্জামান জানান, মালামাল পাহারা দেবার দায়িত্ব আমার নয়। এখনও এ বিষয়ে আমাদের টেন্ডার হয়নি। মালামাল চুরির বিষয়ে থানায় একটি সাধারন ডায়েরি করেছিলাম।

আপনার মতামত লিখুন

 দৈনিক আলাপন

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


নীলফামারীর পুরনো কারাগারের মালামাল পাচারের চেষ্টা

প্রকাশের তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

নীলফামারী শহরের পুরনো কারাগারের ইট, লোহা ও কাঠসহ মূল্যবান সম্পদ প্রতিনিয়ত চুরির অভিযোগ নিয়ে শহর জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারী কোনো প্রকার টেন্ডার কিংবা নিলাম ছাড়াই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নামে অধিযাচনকৃত করা ট্রাকে করে এসব মালামাল সরিয়ে নেওয়ার সময় হাতেনাতে মিলেছে চুরির সত্যতা।

গত বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে নীলফামারীর পুরনো কারাগার চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, টেন্ডার বা প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়াই একটি অধিযাচনকৃত ট্রাকে (পাবনা-ট-১১-০৫৫৬) ইট বোঝাই করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে ট্রাক ড্রাইভার মোঃ শামিম জানান, ট্রাফিক সার্জেন্ট রাস্তা থেকে তাঁর ট্রাকটি সরকারি কাজের কথা বলে অধিগ্রহণ করেন। গাড়িটি কেন এবং কোথায় ব্যবহার হচ্ছে সে বিষয়ে তাঁর সুস্পষ্ট কোনো ধারণা ছিল না। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ট্রাফিক সার্জেন্ট সাদেকুর রহমান সুজন জানান, চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের বডিগাড ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা তাঁকে একটি ট্রাক অধিযাচন করে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। সেই অনুযায়ী তিনি গাড়িটি অধিযাচন করে দেন। এক কর্মকর্তা থেকে অন্য কর্মকর্তার ওপর দায় চাপানোর এই প্রক্রিয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

দাপ্তরিক নথিতে দেখা যায়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নেজারত শাখা থেকে গত ২ সেপ্টেম্বর ‘অস্থাবর সম্পত্তি হুকুম দখল আদেশ’-এর মাধ্যমে গাড়িটি অপরাধ দমন ও আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের অজুহাতে রিকুইজিশন করা হয়েছিল। তবে রিকুইজিশন করা একটি গাড়ি কীভাবে টেন্ডার ছাড়া সরকারি স্থাপনার মালামাল পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছে তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ঘোর ধোঁয়াশা।

গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পরিত্যক্ত এই কারাগারের মালামাল নিলামের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ইতিপূর্বেও এই পুরনো ভবন থেকে বিপুল পরিমাণের ইট, লোহা ও অন্যান্য সরঞ্জাম চুরির ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ বুলবুল আহমেদ নীলফামারী সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১১১৯, তাং- ২০/০৪/২০২৬) দায়ের করেছিলেন। সাধারণ ডায়েরিতে উল্লেখ করা হয়েছিল, চীফ জুডিশিয়াল আদালত ভবন নির্মাণের জন্য পুরানো কারাগার ভাঙ্গার কাজ চলার সময় নিলামে বিক্রি না হওয়া বেশ কিছু ইট ও সরকারি সম্পত্তি সেখান থেকে গায়েব হয়ে যায়। বারবার চুরি ও সাধারণ ডায়েরি করার পরও ফের সরকারি ভাবে রিকুইজিশন করা গাড়ি ব্যবহার করে এভাবে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চোর চক্র ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর। এবিষয়ে নীলফামারী চীফ জুডিশিয়াল আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ সোহেল শাহকে তার মুঠোফোনে একাধিক বার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

নীলফামারী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সাকিউজ্জামান জানান, মালামাল পাহারা দেবার দায়িত্ব আমার নয়। এখনও এ বিষয়ে আমাদের টেন্ডার হয়নি। মালামাল চুরির বিষয়ে থানায় একটি সাধারন ডায়েরি করেছিলাম।


 দৈনিক আলাপন

সম্পাদক ও প্রকাশক: আমিনুল হক
নির্বাহী সম্পাদক: কাজী জাহিদ
ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোঃ নুরুন্নবী।

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
নীলফামারীর পুরনো কারাগারের মালামাল পাচারের চেষ্টা
0:00 / 0:00
1x