দৈনিক আলাপন

জমিজমা নেই, স্থায়ী আয় নেই; বাদামের ঝুড়ি হাতে প্রতিদিনই জীবনসংগ্রামে নামেন ডিমলার সুলতান।

দিন শেষে লাভ ২০০ টাকা, তবুও স্বপ্ন দেখেন সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে



দিন শেষে লাভ ২০০ টাকা, তবুও স্বপ্ন দেখেন সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে

সকাল হলেই হাতে বাদামের ঝুড়ি নিয়ে পথে বেরিয়ে পড়েন সুলতান। মাথার ওপর তপ্ত রোদ, কখনো বৃষ্টি, সঙ্গে নিত্যদিনের ক্লান্তি কোনো কিছুই তাকে থামাতে পারে না। কারণ, তার পেছনে রয়েছে একটি পরিবার, যাদের মুখে দুমুঠো খাবার তুলে দিতে প্রতিদিনই তাকে লড়াই করতে হয়। পথে পথে বাদাম বিক্রি করেই চলে তার সংসার। দিনশেষে যা আয় হয়, তা দিয়ে কোনো রকমে মেটে নিত্যপ্রয়োজনের খরচ।

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ তিতপাড়া (খানাবাড়ী) গ্রামের মৃত মহির উদ্দিনের ছেলে সুলতান। নিজের কোনো জমিজমা নেই। অন্যের জমিতে বসবাস করেই জীবনের কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করছেন তিনি। জীবিকার একমাত্র অবলম্বন বাদাম বিক্রি। প্রতিদিনের এই ক্ষুদ্র ব্যবসার আয় দিয়েই পরিবারের ভরণপোষণ, সন্তানদের পড়াশোনা ও অন্যান্য খরচ চালানোর চেষ্টা করেন।

সুলতানের জীবনযাত্রা যেন এক নিরন্তর সংগ্রামের গল্প। কখনো বিক্রি ভালো হয়, আবার কখনো দিনভর ঘুরেও তেমন আয় হয় না। তবুও থেমে থাকার সুযোগ নেই। পরদিন আবারও বাদামের ঝুড়ি সাজিয়ে বেরিয়ে পড়তে হয় তাকে।

সুলতান বলেন, ‘জিনিসপত্রের দাম যে হারে বাড়ছে, তাতে প্রতিদিন বাদাম বিক্রি করে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কাঁচা বাদাম, কয়লা আর ঠোঙার কাগজ কিনতেই বিক্রির বড় অংশ চলে যায়। দিনশেষে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা লাভ থাকে। এই টাকায় চাল-ডাল কিনব, না ছেলেমেয়ের পড়াশোনার খরচ দেব, বুঝতে পারি না।’

কথাগুলো বলতে বলতে তার কণ্ঠে ফুটে ওঠে হতাশা। তবে অভাবের কাছে হার মানতে নারাজ এই মানুষটি। পরিবারের মুখে হাসি ফোটানো এবং সন্তানদের একটু ভালো ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই তার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। নিজের কষ্টকে আড়াল করে প্রতিদিন নতুন করে বাঁচার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

সুলতানের মতো অসংখ্য মানুষ জীবিকার তাগিদে নীরবে সংগ্রাম করে চলেছেন। তাদের কারও হাতে নেই বড় কোনো পুঁজি, নেই স্থায়ী আয়ের নিশ্চয়তা। সামান্য পুঁজি আর কঠোর পরিশ্রমই তাদের বেঁচে থাকার অবলম্বন। দিন শেষে তাদের ঘামে টিকে থাকে একটি পরিবার, বেঁচে থাকে একটি স্বপ্ন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সুলতানের মতো পরিশ্রমী মানুষের পাশে সরকারি সহায়তা, সহজ শর্তে ঋণ কিংবা ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য আর্থিক সহযোগিতা থাকলে তারা কিছুটা স্বচ্ছলতার মুখ দেখতে পারতেন। এতে তাদের জীবিকার পথও আরও সহজ হতো।

প্রতিদিনের মতো রাতেও বাদাম বিক্রি শেষে ঘরে ফেরেন সুলতান। শরীরে জমে থাকে সারাদিনের ক্লান্তি, হাতে লেগে থাকে পোড়া কয়লার ছাই আর বাদামের খোসা। তবুও আগামী দিনের আশায় বুক বাঁধেন তিনি। কারণ, তার কাছে এক মুঠো বাদাম শুধু একটি পণ্য নয় এটাই সংসার চালানোর অবলম্বন, সন্তানদের ভবিষ্যতের স্বপ্ন এবং বেঁচে থাকার নিরন্তর লড়াই।

আপনার মতামত লিখুন

 দৈনিক আলাপন

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


দিন শেষে লাভ ২০০ টাকা, তবুও স্বপ্ন দেখেন সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে

প্রকাশের তারিখ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সকাল হলেই হাতে বাদামের ঝুড়ি নিয়ে পথে বেরিয়ে পড়েন সুলতান। মাথার ওপর তপ্ত রোদ, কখনো বৃষ্টি, সঙ্গে নিত্যদিনের ক্লান্তি কোনো কিছুই তাকে থামাতে পারে না। কারণ, তার পেছনে রয়েছে একটি পরিবার, যাদের মুখে দুমুঠো খাবার তুলে দিতে প্রতিদিনই তাকে লড়াই করতে হয়। পথে পথে বাদাম বিক্রি করেই চলে তার সংসার। দিনশেষে যা আয় হয়, তা দিয়ে কোনো রকমে মেটে নিত্যপ্রয়োজনের খরচ।

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ তিতপাড়া (খানাবাড়ী) গ্রামের মৃত মহির উদ্দিনের ছেলে সুলতান। নিজের কোনো জমিজমা নেই। অন্যের জমিতে বসবাস করেই জীবনের কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করছেন তিনি। জীবিকার একমাত্র অবলম্বন বাদাম বিক্রি। প্রতিদিনের এই ক্ষুদ্র ব্যবসার আয় দিয়েই পরিবারের ভরণপোষণ, সন্তানদের পড়াশোনা ও অন্যান্য খরচ চালানোর চেষ্টা করেন।

সুলতানের জীবনযাত্রা যেন এক নিরন্তর সংগ্রামের গল্প। কখনো বিক্রি ভালো হয়, আবার কখনো দিনভর ঘুরেও তেমন আয় হয় না। তবুও থেমে থাকার সুযোগ নেই। পরদিন আবারও বাদামের ঝুড়ি সাজিয়ে বেরিয়ে পড়তে হয় তাকে।

সুলতান বলেন, ‘জিনিসপত্রের দাম যে হারে বাড়ছে, তাতে প্রতিদিন বাদাম বিক্রি করে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কাঁচা বাদাম, কয়লা আর ঠোঙার কাগজ কিনতেই বিক্রির বড় অংশ চলে যায়। দিনশেষে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা লাভ থাকে। এই টাকায় চাল-ডাল কিনব, না ছেলেমেয়ের পড়াশোনার খরচ দেব, বুঝতে পারি না।’

কথাগুলো বলতে বলতে তার কণ্ঠে ফুটে ওঠে হতাশা। তবে অভাবের কাছে হার মানতে নারাজ এই মানুষটি। পরিবারের মুখে হাসি ফোটানো এবং সন্তানদের একটু ভালো ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই তার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। নিজের কষ্টকে আড়াল করে প্রতিদিন নতুন করে বাঁচার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

সুলতানের মতো অসংখ্য মানুষ জীবিকার তাগিদে নীরবে সংগ্রাম করে চলেছেন। তাদের কারও হাতে নেই বড় কোনো পুঁজি, নেই স্থায়ী আয়ের নিশ্চয়তা। সামান্য পুঁজি আর কঠোর পরিশ্রমই তাদের বেঁচে থাকার অবলম্বন। দিন শেষে তাদের ঘামে টিকে থাকে একটি পরিবার, বেঁচে থাকে একটি স্বপ্ন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সুলতানের মতো পরিশ্রমী মানুষের পাশে সরকারি সহায়তা, সহজ শর্তে ঋণ কিংবা ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য আর্থিক সহযোগিতা থাকলে তারা কিছুটা স্বচ্ছলতার মুখ দেখতে পারতেন। এতে তাদের জীবিকার পথও আরও সহজ হতো।

প্রতিদিনের মতো রাতেও বাদাম বিক্রি শেষে ঘরে ফেরেন সুলতান। শরীরে জমে থাকে সারাদিনের ক্লান্তি, হাতে লেগে থাকে পোড়া কয়লার ছাই আর বাদামের খোসা। তবুও আগামী দিনের আশায় বুক বাঁধেন তিনি। কারণ, তার কাছে এক মুঠো বাদাম শুধু একটি পণ্য নয় এটাই সংসার চালানোর অবলম্বন, সন্তানদের ভবিষ্যতের স্বপ্ন এবং বেঁচে থাকার নিরন্তর লড়াই।


 দৈনিক আলাপন

সম্পাদক ও প্রকাশক: আমিনুল হক
নির্বাহী সম্পাদক: কাজী জাহিদ
ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোঃ নুরুন্নবী।

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
দিন শেষে লাভ ২০০ টাকা, তবুও স্বপ্ন দেখেন সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে
0:00 / 0:00
1x