দৈনিক আলাপন

চিরিরবন্দরে মাষকলাই চাষে কৃষকের বাড়তি আয়



চিরিরবন্দরে মাষকলাই চাষে কৃষকের বাড়তি আয়

দিনাজপুর চিরিরবন্দরে কৃষকেরা পতিত জমিতে মাষকলাই চাষ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে । গত কয়েকবার মাষকলাই চাষে লাভের মুখ দেখায় এবারও তাঁরা ব্যাপকভাবে চাষ শুরু করেছেন।

চিরিরবন্দর উপজেলার আয়তন ১২০ দশমিক ৭৪ বর্গমাইল। ১২টি ইউনিয়ন ও ১৪১টি গ্রাম নিয়ে গঠিত। অধিকাংশ জমি অপেক্ষাকৃত উঁচু। ৯ হাজার ৩৪৮টি পুকুর রয়েছে এবং প্রচুর গ্রাম্য মেঠোপথ । চাষিরা পুকুর পাড়, পাকা-কাচা রাস্তার দু’ধার এবং পতিত উঁচু জমিতে মাষকলাই চাষ করে বাড়তি আয় করছেন। এমনকি আম, লিচু বাগানে কৃষকরা মাসকলাইয়ের চাষ করছে। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে মাষকলাই চাষে লাভের স্বপ্ন বুনছেন এ উপজেলার চাষিরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় ১০ হেক্টর জমিতে মাষকলাই চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় বেশি। 

উপজেলার জোত সাতনালা গ্রামের চাষি অখিল চন্দ্র রায় বলেন, এ বছর রাস্তার দু’ধারে প্রায় এক একর জমিতে কলার সাথে মাষকলাই চাষ করেছি। এই চাষে খরচ কম কিন্তু লাভ হয় বেশি। সার ও পানির খরচও কম।

নানিয়াটিকর গ্রামের চাষি আফজালুর রহমানের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মাসকলাইয়ের বীজ বপন করতে কোন প্রকার চাষ প্রয়োজন হয় না। জমির উপর বীজ ছিটিয়ে দিলেই চারা হয়ে যায় আর এ চারা থেকে ২ থেকে আড়াই মাসের মধ্যে ফলন পাওয়া যায়। কোন প্রকার পরিশ্রম, সার, নিড়ানী, অতিরিক্ত জমির প্রয়োজন না থাকায় প্রতি বছর উপজেলায় মাষকলাই চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়াও এ কলাইয়ের বিভিন্ন ধরণের তরকারি তৈরী হয় যা সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। ফলে, রাস্তার দু’ধারে পতিত অংশে মাষকলাই চাষ হওয়ায় একদিকে যেমন রাস্তার সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরদিকে প্রতি এক বিঘা পরিমাণ জমিতে ৫-৭ মণ পর্যন্ত মাষকলাই ফলন পেয়ে থাকেন চাষিরা। 

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম জানান, কৃষকেরা যেন অধিক লাভবান হতে পারেন, সে জন্য কৃষি অফিস সব সময় চাষীদের পাশে আছে। মাষকলাইয়ে ভালো ফলন পেতে মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।

আপনার মতামত লিখুন

 দৈনিক আলাপন

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


চিরিরবন্দরে মাষকলাই চাষে কৃষকের বাড়তি আয়

প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

দিনাজপুর চিরিরবন্দরে কৃষকেরা পতিত জমিতে মাষকলাই চাষ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে । গত কয়েকবার মাষকলাই চাষে লাভের মুখ দেখায় এবারও তাঁরা ব্যাপকভাবে চাষ শুরু করেছেন।

চিরিরবন্দর উপজেলার আয়তন ১২০ দশমিক ৭৪ বর্গমাইল। ১২টি ইউনিয়ন ও ১৪১টি গ্রাম নিয়ে গঠিত। অধিকাংশ জমি অপেক্ষাকৃত উঁচু। ৯ হাজার ৩৪৮টি পুকুর রয়েছে এবং প্রচুর গ্রাম্য মেঠোপথ । চাষিরা পুকুর পাড়, পাকা-কাচা রাস্তার দু’ধার এবং পতিত উঁচু জমিতে মাষকলাই চাষ করে বাড়তি আয় করছেন। এমনকি আম, লিচু বাগানে কৃষকরা মাসকলাইয়ের চাষ করছে। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে মাষকলাই চাষে লাভের স্বপ্ন বুনছেন এ উপজেলার চাষিরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় ১০ হেক্টর জমিতে মাষকলাই চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় বেশি। 

উপজেলার জোত সাতনালা গ্রামের চাষি অখিল চন্দ্র রায় বলেন, এ বছর রাস্তার দু’ধারে প্রায় এক একর জমিতে কলার সাথে মাষকলাই চাষ করেছি। এই চাষে খরচ কম কিন্তু লাভ হয় বেশি। সার ও পানির খরচও কম।

নানিয়াটিকর গ্রামের চাষি আফজালুর রহমানের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মাসকলাইয়ের বীজ বপন করতে কোন প্রকার চাষ প্রয়োজন হয় না। জমির উপর বীজ ছিটিয়ে দিলেই চারা হয়ে যায় আর এ চারা থেকে ২ থেকে আড়াই মাসের মধ্যে ফলন পাওয়া যায়। কোন প্রকার পরিশ্রম, সার, নিড়ানী, অতিরিক্ত জমির প্রয়োজন না থাকায় প্রতি বছর উপজেলায় মাষকলাই চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়াও এ কলাইয়ের বিভিন্ন ধরণের তরকারি তৈরী হয় যা সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। ফলে, রাস্তার দু’ধারে পতিত অংশে মাষকলাই চাষ হওয়ায় একদিকে যেমন রাস্তার সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরদিকে প্রতি এক বিঘা পরিমাণ জমিতে ৫-৭ মণ পর্যন্ত মাষকলাই ফলন পেয়ে থাকেন চাষিরা। 

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম জানান, কৃষকেরা যেন অধিক লাভবান হতে পারেন, সে জন্য কৃষি অফিস সব সময় চাষীদের পাশে আছে। মাষকলাইয়ে ভালো ফলন পেতে মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।


 দৈনিক আলাপন

সম্পাদক ও প্রকাশক: আমিনুল হক
নির্বাহী সম্পাদক: কাজী জাহিদ
ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোঃ নুরুন্নবী।

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
চিরিরবন্দরে মাষকলাই চাষে কৃষকের বাড়তি আয়
0:00 / 0:00
1x