রংপুরে সাংবাদিক মশিউর রহমান ওরফে উৎস রহমান হত্যা মামলায় এক আসামির মৃত্যুদণ্ড ও দুইজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছে আদালত।দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রুবেল ওরফে হেকরমকে মৃত্যুদণ্ড এবং এলিন ও শুভ কুমারকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা পলাতক রয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুর মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচার মশিউর রহমান খান এ রায় প্রদান করেন। এ মামলায় মূল অভিযুক্ত আসামি চিহ্নিত মাদককারবারি জহিরন আক্তার জুঁই ওরফে গেদিকে খালাস দিয়েছে আদালত। রায় ঘোষণার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল হাদী বেলাল ও বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ। এ রায়ে সংক্ষুব্ধ হয়ে উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছে সাংবাদিক উৎস রহমানের পরিবার।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২০১৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় রংপুরের একটি স্থানীয় দৈনিক যুগের আলোর অফিসে যান সাংবাদিক মশিউর রহমান ওরফে উৎস রহমান। এরপর রাতে আর তিনি বাড়ি ফিরেননি। পরদিন সকালে নগরীর ধর্মদাস এলাকায় একটি গাছের সাথে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় নৃশংসভাবে হত্যার শিকার উৎস রহমানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের মা নুরজাহান বেগম নুরী রংপুর কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলায় পুলিশ ৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট দেয় এবং আদালত ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে। এরপর দীর্ঘ ১০ বছর নয় মাসের বেশি সময় ধরে মামলাটির বিচারকার্য চলে। ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক বুধবার বিচারক মামলার রায় প্রদান করেন। মামলার
বাদী নুর জাহান বেগম বলেন, এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। আমরা ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি। এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে। এদিকে এই রায় নিয়ে সাংবাদিক সমাজও মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন রংপুর জেলা সভাপতি মমিনুল ইসলাম রিপন বলেন, সবাই জানে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে অর্থের যোগানদাতাকে এবং কার নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।কিন্তু আদালত প্রমাণের অভাবে সেই মূলহোতাকে মামলা থেকে খালাস দিয়েছে। আমরা মনে করি এই রায় বাদী তার সন্তান হারানোর ঘটনা যে মাস্টারমাইন্ড তার ব্যাপারে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রংপুরে সাংবাদিক মশিউর রহমান ওরফে উৎস রহমান হত্যা মামলায় এক আসামির মৃত্যুদণ্ড ও দুইজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছে আদালত।দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রুবেল ওরফে হেকরমকে মৃত্যুদণ্ড এবং এলিন ও শুভ কুমারকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা পলাতক রয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুর মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচার মশিউর রহমান খান এ রায় প্রদান করেন। এ মামলায় মূল অভিযুক্ত আসামি চিহ্নিত মাদককারবারি জহিরন আক্তার জুঁই ওরফে গেদিকে খালাস দিয়েছে আদালত। রায় ঘোষণার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল হাদী বেলাল ও বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ। এ রায়ে সংক্ষুব্ধ হয়ে উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছে সাংবাদিক উৎস রহমানের পরিবার।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২০১৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় রংপুরের একটি স্থানীয় দৈনিক যুগের আলোর অফিসে যান সাংবাদিক মশিউর রহমান ওরফে উৎস রহমান। এরপর রাতে আর তিনি বাড়ি ফিরেননি। পরদিন সকালে নগরীর ধর্মদাস এলাকায় একটি গাছের সাথে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় নৃশংসভাবে হত্যার শিকার উৎস রহমানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের মা নুরজাহান বেগম নুরী রংপুর কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলায় পুলিশ ৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট দেয় এবং আদালত ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে। এরপর দীর্ঘ ১০ বছর নয় মাসের বেশি সময় ধরে মামলাটির বিচারকার্য চলে। ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক বুধবার বিচারক মামলার রায় প্রদান করেন। মামলার
বাদী নুর জাহান বেগম বলেন, এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। আমরা ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি। এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে। এদিকে এই রায় নিয়ে সাংবাদিক সমাজও মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন রংপুর জেলা সভাপতি মমিনুল ইসলাম রিপন বলেন, সবাই জানে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে অর্থের যোগানদাতাকে এবং কার নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।কিন্তু আদালত প্রমাণের অভাবে সেই মূলহোতাকে মামলা থেকে খালাস দিয়েছে। আমরা মনে করি এই রায় বাদী তার সন্তান হারানোর ঘটনা যে মাস্টারমাইন্ড তার ব্যাপারে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন