বিএনপি নির্বাচনের আগে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন সংস্কারের পরিবর্তে সংশোধনে বেশি মনোযোগী বলে মন্তব্য করেছেন রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুর রহমান বেলাল।
তিনি বলেন, সরকার এখন আর সংস্কার চাচ্ছে না। বিএনপি এখন সংশোধন চায়, সংস্কার চায় না। অথচ সংস্কারের পক্ষে ‘গণভোটে হ্যাঁ’-তে ভোট চেয়েছিল বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। এখন সরকার গঠন করে তারা সেই প্রতিশ্রুতি ভুলে গেছে। সব জায়গায় দলীয়করণ সিস্টেমে দেশ চালাচ্ছে বিএনপি।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে রংপুর নগরীর এনজিও ফোরাম মিলনায়তনে ‘নির্বাচনোত্তর তরুণদের ভাবনা শীর্ষক সংলাপ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘দি হাঙ্গার প্রজেক্ট’ এই সংলাপ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
মাহবুবুর রহমান বেলাল, শহীদ আবু সাঈদ-মুগ্ধ-ওয়াসিমদের সঙ্গে, এদেশের তরুণদের সঙ্গে, জাতির সঙ্গের প্রতারণা করেছে বিএনপি। তাদের কথা ও কাজে মিল নেই। সংবিধানের দোহাই দিয়ে এখন বিএনপি যা করছে, তার জবাব একদিন পেতে হবে। আমরা বারবার বলে আসছি__সংস্কার হবে দেশের স্বার্থে, কোনো দলের বা বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯১টি বিল আকারে উত্থাপনের মাধ্যমে সংসদে এক ধরণের প্রতারণা করেছে। জাতির সাথে করা এই চরম বিশ্বাসঘাতকতার ফল তাদের ভোগ করতে হবে। দলীয়করণে আওয়ামী লীগকেও বিএনপি ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এটা দেশের জন্য অশনি-সংকেত।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. রায়হান সিরাজী বলেন, গত ছয় মাসে দেশে কোনো পরিবর্তন হয়নি। যে আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন ও প্রত্যাশা তরুণ সমাজ করেছিল, সরকার তাদের হতাশ করেছে। মানুষের সাধ্যের মধ্যে জ্বালানি, গ্যাস, বিদ্যুৎসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম এখন আর নেই। এখন চারিদিকে শুধু অভিযোগ, হাহাকার আর ভয়ের পরিবেশ। ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, চুরি-ছিনতাই, নিখোঁজ, অপহরণ, হত্যার খবর বেশি পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বৈষম্যহীন ন্যায়-সাম্য ও ইনসাফের বাংলাদেশ আমরা দেখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এখনও আমরা দেখছি সেই পুরনো চিত্র। বিএনপি সরকার সেই পালানো লীগের পথে বাড়াচ্ছে। তারাও রংপুর অঞ্চলের মানুষের সাথে বৈষম্য করছে। বাজেটে সুষম বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। তারা এখন কাজের চেয়ে ক্রেডিট নিতে ব্যস্ত বেশি। কিন্তু আমরা দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে সরকার ও বিরোধীদল মিলে কাজ করতে চাই__এর জন্য আমরা ক্রেডিট চাই না।
দি হাঙ্গার প্রজেক্টের রংপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী রাজেশ দে রাজু’র সঞ্চালনায় সংলাপ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রংপুর জেলা সভাপতি খন্দকার ফখরুল আনাম বেঞ্জু।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন রংপুর জেলা সাধারণ সম্পাদক নাসিমা আমিন, মহানগর সুজনের প্রচার সম্পাদক ফরহাদুজ্জামান ফারুক, ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার রংপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী রাকিবুল হাসান রাকিব, জেলা সমন্বয়কারী মনির শাহরিয়ার ও রংপুর সরকারি কলেজের যুগ্ন সমন্বয়কারী সিনথিয়া, কারমাইকেল কলেজের সমন্বয়কারী লাবিব প্রমুখ।
সংলাপের উন্মুক্ত পর্বে শান্তি, সম্প্রীতি, স্থিতিশীল ও সহিংসতামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তরুণ সমাজের প্রতিনিধিরা স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা তুলে ধরেন। এসময় তারা কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অপরাধ রোধ, মাদক নিয়ন্ত্রণ, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন এবং সংকট নিরসনের দাবির পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের কাছে সুশাসন, বৈষম্যহীন সমাজ এবং রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় নিজেদের কার্যকর অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করার আহ্বান জানান।
মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, তরুণ সমাজের প্রতিনিধি, সাংস্কৃতিক, স্বেচ্ছাসেবী, উদ্যোক্তা, উন্নয়নকর্মী ও সংগঠকরা অংশ নেন।

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬
বিএনপি নির্বাচনের আগে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন সংস্কারের পরিবর্তে সংশোধনে বেশি মনোযোগী বলে মন্তব্য করেছেন রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুর রহমান বেলাল।
তিনি বলেন, সরকার এখন আর সংস্কার চাচ্ছে না। বিএনপি এখন সংশোধন চায়, সংস্কার চায় না। অথচ সংস্কারের পক্ষে ‘গণভোটে হ্যাঁ’-তে ভোট চেয়েছিল বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। এখন সরকার গঠন করে তারা সেই প্রতিশ্রুতি ভুলে গেছে। সব জায়গায় দলীয়করণ সিস্টেমে দেশ চালাচ্ছে বিএনপি।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে রংপুর নগরীর এনজিও ফোরাম মিলনায়তনে ‘নির্বাচনোত্তর তরুণদের ভাবনা শীর্ষক সংলাপ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘দি হাঙ্গার প্রজেক্ট’ এই সংলাপ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
মাহবুবুর রহমান বেলাল, শহীদ আবু সাঈদ-মুগ্ধ-ওয়াসিমদের সঙ্গে, এদেশের তরুণদের সঙ্গে, জাতির সঙ্গের প্রতারণা করেছে বিএনপি। তাদের কথা ও কাজে মিল নেই। সংবিধানের দোহাই দিয়ে এখন বিএনপি যা করছে, তার জবাব একদিন পেতে হবে। আমরা বারবার বলে আসছি__সংস্কার হবে দেশের স্বার্থে, কোনো দলের বা বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯১টি বিল আকারে উত্থাপনের মাধ্যমে সংসদে এক ধরণের প্রতারণা করেছে। জাতির সাথে করা এই চরম বিশ্বাসঘাতকতার ফল তাদের ভোগ করতে হবে। দলীয়করণে আওয়ামী লীগকেও বিএনপি ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এটা দেশের জন্য অশনি-সংকেত।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. রায়হান সিরাজী বলেন, গত ছয় মাসে দেশে কোনো পরিবর্তন হয়নি। যে আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন ও প্রত্যাশা তরুণ সমাজ করেছিল, সরকার তাদের হতাশ করেছে। মানুষের সাধ্যের মধ্যে জ্বালানি, গ্যাস, বিদ্যুৎসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম এখন আর নেই। এখন চারিদিকে শুধু অভিযোগ, হাহাকার আর ভয়ের পরিবেশ। ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, চুরি-ছিনতাই, নিখোঁজ, অপহরণ, হত্যার খবর বেশি পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বৈষম্যহীন ন্যায়-সাম্য ও ইনসাফের বাংলাদেশ আমরা দেখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এখনও আমরা দেখছি সেই পুরনো চিত্র। বিএনপি সরকার সেই পালানো লীগের পথে বাড়াচ্ছে। তারাও রংপুর অঞ্চলের মানুষের সাথে বৈষম্য করছে। বাজেটে সুষম বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। তারা এখন কাজের চেয়ে ক্রেডিট নিতে ব্যস্ত বেশি। কিন্তু আমরা দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে সরকার ও বিরোধীদল মিলে কাজ করতে চাই__এর জন্য আমরা ক্রেডিট চাই না।
দি হাঙ্গার প্রজেক্টের রংপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী রাজেশ দে রাজু’র সঞ্চালনায় সংলাপ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রংপুর জেলা সভাপতি খন্দকার ফখরুল আনাম বেঞ্জু।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন রংপুর জেলা সাধারণ সম্পাদক নাসিমা আমিন, মহানগর সুজনের প্রচার সম্পাদক ফরহাদুজ্জামান ফারুক, ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার রংপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী রাকিবুল হাসান রাকিব, জেলা সমন্বয়কারী মনির শাহরিয়ার ও রংপুর সরকারি কলেজের যুগ্ন সমন্বয়কারী সিনথিয়া, কারমাইকেল কলেজের সমন্বয়কারী লাবিব প্রমুখ।
সংলাপের উন্মুক্ত পর্বে শান্তি, সম্প্রীতি, স্থিতিশীল ও সহিংসতামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তরুণ সমাজের প্রতিনিধিরা স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা তুলে ধরেন। এসময় তারা কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অপরাধ রোধ, মাদক নিয়ন্ত্রণ, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন এবং সংকট নিরসনের দাবির পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের কাছে সুশাসন, বৈষম্যহীন সমাজ এবং রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় নিজেদের কার্যকর অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করার আহ্বান জানান।
মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, তরুণ সমাজের প্রতিনিধি, সাংস্কৃতিক, স্বেচ্ছাসেবী, উদ্যোক্তা, উন্নয়নকর্মী ও সংগঠকরা অংশ নেন।

আপনার মতামত লিখুন