নীলফামারীর সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য জিপিএ-৫-এর বাধ্যবাধকতা শিথিল করা হয়েছে। এখন থেকে ওই কলেজের নিয়মিত যেসব শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪ বা তার বেশি পেয়েছে, তারা একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। তবে অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আসা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে জিপিএ-৫ ছাড়া আবেদন করার সুযোগ থাকছে না।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে নীলফামারী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সময় এ সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) মুঠোফোনে দৈনিক আলাপনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবুল কালাম আজাদ।
এর আগে গত রোববার সকালে সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগের দাবিতে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। এ সময় তাঁরা সৈয়দপুর শহরের গুরুত্বপূর্ণ ভিআইপি রোড হিসেবে পরিচিত সৈয়দপুর বিমানবন্দর সড়ক অবরোধ করে রাখেন। কর্মসূচিতে ১৩ জন শিক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবক অংশ নেন।
চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ না পাওয়ায় কলেজটির ৪৮ জন নিয়মিত শিক্ষার্থী নিজেদের প্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করতে পারছিলেন না। এ অবস্থায় ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত করার দাবিতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা আন্দোলনে নামেন।
আন্দোলন চলাকালে ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (অ্যাব)-এর আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার শাহরিয়ার ইসলাম চৌধুরী তুহিন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে এবং তাদের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। পরে তাঁরা সেখানে গেলে নীলফামারী জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় মন্ত্রী শিক্ষার্থীদের কথা শোনেন এবং তাঁদের ভর্তির সমস্যার বিষয়ে অবগত হন। আলোচনার পর নিজ প্রতিষ্ঠানের জিপিএ-৪ বা তার বেশি পাওয়া শিক্ষার্থীদের আবেদনের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
সোমবার মুঠোফোনে সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবুল কালাম আজাদ দৈনিক আলাপনকে বলেন, ‘নিজ প্রতিষ্ঠানের যেসব নিয়মিত শিক্ষার্থী জিপিএ-৪ পয়েন্ট বা তার বেশি পেয়েছে, তারা সবাই একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। তবে অন্য সব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে জিপিএ-৫ ছাড়া আবেদন করা যাবে না।’
কলেজ সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজ উত্তরাঞ্চলের অন্যতম সুনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটির ১০১ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১০০ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। তাঁদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫২ জন। এ বছর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য কলেজটিতে ৩৫০টি আসন নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ২৭ আগস্ট প্রকাশিত ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে ভর্তির ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে জিপিএ-৫ নির্ধারণ করা হয়। এতে জিপিএ-৫ না পাওয়া ৪৮ জন শিক্ষার্থী নিজ প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় পড়েছিলেন।
এর আগে ৪৮ জন শিক্ষার্থীর অভিভাবকেরা ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত করার দাবিতে দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত আবেদন করেন। পরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা আন্দোলনে নামেন। তাঁদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নিজ প্রতিষ্ঠানের জিপিএ-৪ বা তার বেশি পাওয়া শিক্ষার্থীদের আবেদনের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হওয়ায় ভর্তির অনিশ্চয়তা দূর হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে।

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নীলফামারীর সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য জিপিএ-৫-এর বাধ্যবাধকতা শিথিল করা হয়েছে। এখন থেকে ওই কলেজের নিয়মিত যেসব শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪ বা তার বেশি পেয়েছে, তারা একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। তবে অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আসা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে জিপিএ-৫ ছাড়া আবেদন করার সুযোগ থাকছে না।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে নীলফামারী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সময় এ সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) মুঠোফোনে দৈনিক আলাপনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবুল কালাম আজাদ।
এর আগে গত রোববার সকালে সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগের দাবিতে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। এ সময় তাঁরা সৈয়দপুর শহরের গুরুত্বপূর্ণ ভিআইপি রোড হিসেবে পরিচিত সৈয়দপুর বিমানবন্দর সড়ক অবরোধ করে রাখেন। কর্মসূচিতে ১৩ জন শিক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবক অংশ নেন।
চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ না পাওয়ায় কলেজটির ৪৮ জন নিয়মিত শিক্ষার্থী নিজেদের প্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করতে পারছিলেন না। এ অবস্থায় ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত করার দাবিতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা আন্দোলনে নামেন।
আন্দোলন চলাকালে ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (অ্যাব)-এর আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার শাহরিয়ার ইসলাম চৌধুরী তুহিন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে এবং তাদের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। পরে তাঁরা সেখানে গেলে নীলফামারী জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় মন্ত্রী শিক্ষার্থীদের কথা শোনেন এবং তাঁদের ভর্তির সমস্যার বিষয়ে অবগত হন। আলোচনার পর নিজ প্রতিষ্ঠানের জিপিএ-৪ বা তার বেশি পাওয়া শিক্ষার্থীদের আবেদনের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
সোমবার মুঠোফোনে সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবুল কালাম আজাদ দৈনিক আলাপনকে বলেন, ‘নিজ প্রতিষ্ঠানের যেসব নিয়মিত শিক্ষার্থী জিপিএ-৪ পয়েন্ট বা তার বেশি পেয়েছে, তারা সবাই একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। তবে অন্য সব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে জিপিএ-৫ ছাড়া আবেদন করা যাবে না।’
কলেজ সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজ উত্তরাঞ্চলের অন্যতম সুনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটির ১০১ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১০০ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। তাঁদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫২ জন। এ বছর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য কলেজটিতে ৩৫০টি আসন নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ২৭ আগস্ট প্রকাশিত ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে ভর্তির ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে জিপিএ-৫ নির্ধারণ করা হয়। এতে জিপিএ-৫ না পাওয়া ৪৮ জন শিক্ষার্থী নিজ প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় পড়েছিলেন।
এর আগে ৪৮ জন শিক্ষার্থীর অভিভাবকেরা ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত করার দাবিতে দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত আবেদন করেন। পরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা আন্দোলনে নামেন। তাঁদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নিজ প্রতিষ্ঠানের জিপিএ-৪ বা তার বেশি পাওয়া শিক্ষার্থীদের আবেদনের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হওয়ায় ভর্তির অনিশ্চয়তা দূর হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন