নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের বাঁশবাড়ি মহল্লার ক্যাম্পের ঘিঞ্জি পরিবেশে বেড়ে ওঠা। ঘরের আসবাবপত্র বলতে একটি মাত্র খাট। ওই খাটে পড়ালেখা আর ঘুমায় পরিবারে ৭ সদস্য। ঘরে পড়ার চেয়ার টেবিলও নেই। এমন বৈরী পরিবেশের মধ্যে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ -৫ পেয়েছে শাবনাজ খাতুন রানি। শাবনাজ এবার শহরের আল ফারুক একাডেমি থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।
শাবনাজ জানায় তার জীবন যুদ্ধের কথা। ভালো ফলাফলের জন্য বাবা মার অবদানকে সবচেয়ে বড় করে দেখে সে। এর পর শিক্ষকদের অবদান কথা স্বীকার করে সে। শাবনাজ আরও জানায়, কত রাত না খেয়েও কেটেছে। বাবা রিকশা চালান শহরে। ভোর ৫ টায় বেরিয়ে যান তিনি। ফেরেন গভীর রাতে। হাতে থাকে কিছু বাজার সদাই। রাতেই চুলা জ্বালিয়ে রান্না করার পর মেলে খাওয়া।
শাবনাজরা ৪ বোন ১ ভাই। বড় বোন রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিদ্যায় সম্মান শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। মেজ বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। তবে সবার ছোট বোন সৈয়দপুর পাইলট বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাবার তেমন সামর্থ নেই। মা লাডলি কদিন আগেও মানুষের বাসাবাড়িতে ঝিয়ের কাজ করতেন। এখন অসুস্থ, কাজে যেতে পারে না। কষ্টের জীবনে লেখাপড়া আছে কিনা, এ নিয়ে শঙ্কিত শাবনাজ।
ক্যাম্পে কথা হয় শাবনাজের মা সঙ্গে। তিনি জানান, মেয়েদের পড়ালেখা চালাতে বাবা হাড়ভাংগা খাটুনি খাটে। আগে মহাজনের রিকশা চালাতেন। দুবছর আগে এনজিও থেকে ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে একটা ব্যাটারি রিকশা কিনে দেওয়া হয়েছে তাকে। ওই রিকশার কিস্তি পরিশোধ করে যা থাকে তা দিয়ে এতো বড় সংসার চলে।
তিনি আরও বলেন, আল ফারুক একাডেমির প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম, শিক্ষক জালাল উদ্দিন ও মতিউর রহমান অনেক খেয়াল রেখেছেন শাবনাজের প্রতি। তাঁদের জন্যই আমার মেয়ে হাফ ফ্রিতে লেখাপড়া করতে পেরেছে। জিপির-৫ পেয়েছে। তিনি স্কুলের সকল শিক্ষকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
শাবনাজের বাবা মো. ইসমাইল বলেন, আমার মেয়ের জন্য দোয়া করবেন। সারাদিন রিকশা টেনে শরীরে শক্তি পাই না। এখন আমার বয়স হয়েছে, মৃত্যুর আগে আমি মেয়েকে প্রতিষ্ঠিত দেখতে চাই।
আল ফারুক একাডেমির প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, শাবনাজ অনেক মেধাবী মেয়ে। ওর লেখাপড়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিলো তার একাগ্রতা। এছাড়াও বাবা মার কষ্টকে সে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। সে তার বাবা মা ও শিক্ষকদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। আমি তার মঙ্গল কামনা করছি।

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের বাঁশবাড়ি মহল্লার ক্যাম্পের ঘিঞ্জি পরিবেশে বেড়ে ওঠা। ঘরের আসবাবপত্র বলতে একটি মাত্র খাট। ওই খাটে পড়ালেখা আর ঘুমায় পরিবারে ৭ সদস্য। ঘরে পড়ার চেয়ার টেবিলও নেই। এমন বৈরী পরিবেশের মধ্যে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ -৫ পেয়েছে শাবনাজ খাতুন রানি। শাবনাজ এবার শহরের আল ফারুক একাডেমি থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।
শাবনাজ জানায় তার জীবন যুদ্ধের কথা। ভালো ফলাফলের জন্য বাবা মার অবদানকে সবচেয়ে বড় করে দেখে সে। এর পর শিক্ষকদের অবদান কথা স্বীকার করে সে। শাবনাজ আরও জানায়, কত রাত না খেয়েও কেটেছে। বাবা রিকশা চালান শহরে। ভোর ৫ টায় বেরিয়ে যান তিনি। ফেরেন গভীর রাতে। হাতে থাকে কিছু বাজার সদাই। রাতেই চুলা জ্বালিয়ে রান্না করার পর মেলে খাওয়া।
শাবনাজরা ৪ বোন ১ ভাই। বড় বোন রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিদ্যায় সম্মান শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। মেজ বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। তবে সবার ছোট বোন সৈয়দপুর পাইলট বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাবার তেমন সামর্থ নেই। মা লাডলি কদিন আগেও মানুষের বাসাবাড়িতে ঝিয়ের কাজ করতেন। এখন অসুস্থ, কাজে যেতে পারে না। কষ্টের জীবনে লেখাপড়া আছে কিনা, এ নিয়ে শঙ্কিত শাবনাজ।
ক্যাম্পে কথা হয় শাবনাজের মা সঙ্গে। তিনি জানান, মেয়েদের পড়ালেখা চালাতে বাবা হাড়ভাংগা খাটুনি খাটে। আগে মহাজনের রিকশা চালাতেন। দুবছর আগে এনজিও থেকে ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে একটা ব্যাটারি রিকশা কিনে দেওয়া হয়েছে তাকে। ওই রিকশার কিস্তি পরিশোধ করে যা থাকে তা দিয়ে এতো বড় সংসার চলে।
তিনি আরও বলেন, আল ফারুক একাডেমির প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম, শিক্ষক জালাল উদ্দিন ও মতিউর রহমান অনেক খেয়াল রেখেছেন শাবনাজের প্রতি। তাঁদের জন্যই আমার মেয়ে হাফ ফ্রিতে লেখাপড়া করতে পেরেছে। জিপির-৫ পেয়েছে। তিনি স্কুলের সকল শিক্ষকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
শাবনাজের বাবা মো. ইসমাইল বলেন, আমার মেয়ের জন্য দোয়া করবেন। সারাদিন রিকশা টেনে শরীরে শক্তি পাই না। এখন আমার বয়স হয়েছে, মৃত্যুর আগে আমি মেয়েকে প্রতিষ্ঠিত দেখতে চাই।
আল ফারুক একাডেমির প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, শাবনাজ অনেক মেধাবী মেয়ে। ওর লেখাপড়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিলো তার একাগ্রতা। এছাড়াও বাবা মার কষ্টকে সে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। সে তার বাবা মা ও শিক্ষকদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। আমি তার মঙ্গল কামনা করছি।

আপনার মতামত লিখুন