নবীনদের বরণে ফুলের তোড়া, শুভেচ্ছা আর আনন্দ-উচ্ছ্বাস এমনটাই যেন চিরচেনা দৃশ্য। তবে সেই প্রচলিত আয়োজনের বাইরে গিয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের হাতে ফুলের পাশাপাশি তুলে দেওয়া হয়েছে সবুজ ভবিষ্যতের দায়িত্ব। ৫৫ নবীন শিক্ষার্থীর প্রত্যেকের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে একটি করে গাছ। সেই গাছ রোপণের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন তারা।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (বিএইউএসটি)-এর একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস (এআইএস) বিভাগে নবীন বরণ উপলক্ষে নেওয়া হয়েছে এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। সেমিনার, ফুলেল শুভেচ্ছা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা ছড়িয়ে দিতে আয়োজন করা হয় বিশেষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিএইউএসটির এআইএস বিভাগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত নবীন বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মোবারক হোসেন মজুমদার, পিএসসি। বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মোঃ শাহ্ আলম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এআইএস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক রাকিবুল ইসলাম।
নবীনদের একাডেমিক জীবনের শুরুতেই পেশাগত ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ধারণা দিতে অনুষ্ঠানে আয়োজন করা হয় ‘ফ্রম অ্যাকাউন্টিং এডুকেশন টু প্রফেশনাল এক্সেলেন্স: অপরচুনিটিজ, স্কিলস অ্যান্ড ক্যারিয়ার গ্রোথ’ শীর্ষক সেমিনার। এতে মূল বক্তা ছিলেন ব্র্যাক, ঢাকার ইন্টার্নাল অডিট বিভাগের ম্যানেজার সারমিন আক্তার মিতু, এসিএ।
সেমিনারে হিসাববিজ্ঞান শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জ্ঞানের পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, পেশাগত সুযোগ এবং বাস্তবমুখী প্রস্তুতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। শিক্ষাজীবন থেকেই পেশাগত দক্ষতা ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে সচেতন হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন বক্তা।
আলোচনা শেষে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে বরণ করে নেওয়া হয়। এরপর শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গান, কবিতা ও নানা পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস।
তবে এবারের আয়োজনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশ ছিল বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। নবীন বরণের আনুষ্ঠানিকতার দুই দিন আগে, গত ৬ সেপ্টেম্বর বিএইউএসটি ক্যাম্পাসে কর্মসূচিটির আয়োজন করা হয়। উপাচার্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মোবারক হোসেন মজুমদার, পিএসসি নিজ হাতে একটি চারা রোপণের মাধ্যমে এর উদ্বোধন করেন। পরে এআইএস বিভাগের ৫৫ নবীন শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে একটি করে বৃক্ষ রোপণ করেন।
আয়োজকদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের স্মৃতিকে শুধু একটি দিনের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না রেখে দীর্ঘস্থায়ী করে তুলতেই এ উদ্যোগ। একজন শিক্ষার্থী যে গাছটি রোপণ করেছেন, সেটি তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সঙ্গে বেড়ে ওঠার একটি প্রতীক হিসেবেও কাজ করবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও টেকসই ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্য রয়েছে এ কর্মসূচির।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ শামীম রেজা, পিএইচডি (অবঃ), রেজিস্ট্রার কর্নেল চৌধুরী সাইফ উদ্দিন কাওসার, পিবিজিএম (অবঃ), পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ সালাহউদ্দিন নয়ন, বিজিওএম, পিএসসি (অবঃ), বিভিন্ন অনুষদের ডীন, বিভাগীয় ও দপ্তর প্রধান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নবীন বরণের এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে শুধু স্বাগতবার্তা নয়, দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার বার্তাও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। পেশাগত দক্ষতা ও ক্যারিয়ার সচেতনতার সঙ্গে পরিবেশ, সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধকে শিক্ষাজীবনের অংশ করে তোলার ভাবনাই এবারের আয়োজনকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নবীনদের বরণে ফুলের তোড়া, শুভেচ্ছা আর আনন্দ-উচ্ছ্বাস এমনটাই যেন চিরচেনা দৃশ্য। তবে সেই প্রচলিত আয়োজনের বাইরে গিয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের হাতে ফুলের পাশাপাশি তুলে দেওয়া হয়েছে সবুজ ভবিষ্যতের দায়িত্ব। ৫৫ নবীন শিক্ষার্থীর প্রত্যেকের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে একটি করে গাছ। সেই গাছ রোপণের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন তারা।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (বিএইউএসটি)-এর একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস (এআইএস) বিভাগে নবীন বরণ উপলক্ষে নেওয়া হয়েছে এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। সেমিনার, ফুলেল শুভেচ্ছা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা ছড়িয়ে দিতে আয়োজন করা হয় বিশেষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিএইউএসটির এআইএস বিভাগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত নবীন বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মোবারক হোসেন মজুমদার, পিএসসি। বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মোঃ শাহ্ আলম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এআইএস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক রাকিবুল ইসলাম।
নবীনদের একাডেমিক জীবনের শুরুতেই পেশাগত ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ধারণা দিতে অনুষ্ঠানে আয়োজন করা হয় ‘ফ্রম অ্যাকাউন্টিং এডুকেশন টু প্রফেশনাল এক্সেলেন্স: অপরচুনিটিজ, স্কিলস অ্যান্ড ক্যারিয়ার গ্রোথ’ শীর্ষক সেমিনার। এতে মূল বক্তা ছিলেন ব্র্যাক, ঢাকার ইন্টার্নাল অডিট বিভাগের ম্যানেজার সারমিন আক্তার মিতু, এসিএ।
সেমিনারে হিসাববিজ্ঞান শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জ্ঞানের পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, পেশাগত সুযোগ এবং বাস্তবমুখী প্রস্তুতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। শিক্ষাজীবন থেকেই পেশাগত দক্ষতা ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে সচেতন হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন বক্তা।
আলোচনা শেষে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে বরণ করে নেওয়া হয়। এরপর শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গান, কবিতা ও নানা পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস।
তবে এবারের আয়োজনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশ ছিল বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। নবীন বরণের আনুষ্ঠানিকতার দুই দিন আগে, গত ৬ সেপ্টেম্বর বিএইউএসটি ক্যাম্পাসে কর্মসূচিটির আয়োজন করা হয়। উপাচার্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মোবারক হোসেন মজুমদার, পিএসসি নিজ হাতে একটি চারা রোপণের মাধ্যমে এর উদ্বোধন করেন। পরে এআইএস বিভাগের ৫৫ নবীন শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে একটি করে বৃক্ষ রোপণ করেন।
আয়োজকদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের স্মৃতিকে শুধু একটি দিনের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না রেখে দীর্ঘস্থায়ী করে তুলতেই এ উদ্যোগ। একজন শিক্ষার্থী যে গাছটি রোপণ করেছেন, সেটি তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সঙ্গে বেড়ে ওঠার একটি প্রতীক হিসেবেও কাজ করবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও টেকসই ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্য রয়েছে এ কর্মসূচির।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ শামীম রেজা, পিএইচডি (অবঃ), রেজিস্ট্রার কর্নেল চৌধুরী সাইফ উদ্দিন কাওসার, পিবিজিএম (অবঃ), পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ সালাহউদ্দিন নয়ন, বিজিওএম, পিএসসি (অবঃ), বিভিন্ন অনুষদের ডীন, বিভাগীয় ও দপ্তর প্রধান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নবীন বরণের এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে শুধু স্বাগতবার্তা নয়, দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার বার্তাও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। পেশাগত দক্ষতা ও ক্যারিয়ার সচেতনতার সঙ্গে পরিবেশ, সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধকে শিক্ষাজীবনের অংশ করে তোলার ভাবনাই এবারের আয়োজনকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন