আর দশটা শিশুর মত শুরু হয়নি জুলেখার জীবন। পুরো নাম জুলেখা খাতুন। অভাবি পরিবারে অনটন সঙ্গী করে তার স্কুল জীবন শুরু। ক্লাস করতে প্রতিদিন ৫ কিলোমিটার সড়ক পাড়ি দিতে হয়েছে জুলেখাকে। প্রবল ইচ্ছে শক্তি নিয়ে করেছে দারিদ্রতা জয়। ফলাফল জিপিএ-৫ অর্জন। এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায় প্রান্তিক গ্রামে অবস্থিত লক্ষণপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে অভাবি পরিবারের সন্তান জুলেখা। জুলেখাদের থাকার বাড়িঘর নেই। বাবা দিনমজুর। অভাব-অনটনের সংসার। বৈমাত্রীয় ভাই ইতোমধ্যে বাবা-মাকে বাড়ি ছাড়া করে কব্জা করে নিয়েছে বসতভিটা। জুলেখারা ঠাঁই পেয়েছেন প্রতিবেশি চাচা রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের বালাডাঙ্গা গ্রামে। চাচার জমিতে ঘর তুলে থাকে তারা।
সরজমিনে মেধাবি জুলেখার বাড়ি গেলে কথা হয় তার মা শেফালি বেগমের সাথে। তিনি বলেন, বনিবনা না হওয়ায় জুলেখার বড় ভাই (বৈমাত্রের ছেলে) আমাদের ঘর থেকে বের করে দিয়েছে। এখন আমরা প্রতিবেশি দেবরের জায়গায় ঘর করে আছি। অনেক কষ্ট করে জুলেখার বড় দুটি বোনের বিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন জুলেখার বৃদ্ধ বাবা মো. জাহির উদ্দীনকে নিয়ে কোনো রকমে বেঁচে আছি আমরা। জুলেখার সাথে কথা হলে সে জানায়, বাবা অনেক কষ্ট করেন আমার জন্য। অন্যের কৃষি জমিতে দিনমজুরী করে আয় করেন। যেদিন কাজ থাকে না,সেদিন কখনো কখনো উপোষ থাকতে হয় আমাদের। পরীক্ষার দিনগুলোতে খাবার নিয়ে কোনো কষ্ট হয় নাই। পরীক্ষার কথা জেনে প্রতিবেশী চাচী ভাত,তরকারি পাঠাতেন। সে জানায়, বাড়ি থেকে স্কুল অনেক দূরে। বৃত্তির টাকা জমিয়ে একটি সাইকেল কিনেছিলাম। সেই সাইকেলে চেপে প্রতিদিন ৫ কিলোমিটার সড়ক পাড়ি দিয়ে স্কুলে গিয়েছি। কষ্ট করে আজ এতদুর এসেছি। ইচ্ছা আছে উচ্চ শিক্ষা অর্জন করে চিকিৎসক হওয়া। কিন্তু আমার বাবার সে সমর্থ নেই, তাই হতাশ হয়ে পড়েছি। তার ভালো ফলাফলের ব্যাপারে জানতে চাইলে, সে জানায়, স্কুলের অধ্যক্ষ রেজাউল করিম স্যার আমাকে অনেকভাবে সহযোগিতা করেছেন। ক্লাস সিক্স থেকে স্কুলে বিনা বেতনে পড়েছি। শ্রেণি শিক্ষক রেহেনা বেগম ম্যাডাম প্রতিদিন লেখাপড়া বুঝিয়ে দিতেন। এছাড়াও আমি সকল স্যারদের সহযোগিতা পাওয়ায় ভালো ফল করতে পেরেছি।
স্কুলে কথা হয় শ্রেণি শিক্ষক রেহেনা বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, লেখাপড়ায় প্রচন্ড আগ্রহী জুলেখা। সে আমাকে বলতো, বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফুটাতে চাই, তাই ভালো ফলাফল করতেই হবে। আমি ভবিষ্যতে ভালো চিকিৎসক হতে চাই।
লক্ষণপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. রেজাউল করিম বলেন, দারিদ্র্যরে সঙ্গে লড়াই করা জুলেখার জন্য সকলের দোয়া চাই। ওর ভালো ফলাফলের পেছনে সব কৃতিত্ব তার নিজেরই। রাত জেগে খেয়ে না খেয়ে পড়াশুনা করতো মেয়েটি। উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে তার যেন কোনো বাঁধা নাআসে সেজন্য দোয়া করি আল্লাহর কাছে।

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আর দশটা শিশুর মত শুরু হয়নি জুলেখার জীবন। পুরো নাম জুলেখা খাতুন। অভাবি পরিবারে অনটন সঙ্গী করে তার স্কুল জীবন শুরু। ক্লাস করতে প্রতিদিন ৫ কিলোমিটার সড়ক পাড়ি দিতে হয়েছে জুলেখাকে। প্রবল ইচ্ছে শক্তি নিয়ে করেছে দারিদ্রতা জয়। ফলাফল জিপিএ-৫ অর্জন। এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায় প্রান্তিক গ্রামে অবস্থিত লক্ষণপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে অভাবি পরিবারের সন্তান জুলেখা। জুলেখাদের থাকার বাড়িঘর নেই। বাবা দিনমজুর। অভাব-অনটনের সংসার। বৈমাত্রীয় ভাই ইতোমধ্যে বাবা-মাকে বাড়ি ছাড়া করে কব্জা করে নিয়েছে বসতভিটা। জুলেখারা ঠাঁই পেয়েছেন প্রতিবেশি চাচা রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের বালাডাঙ্গা গ্রামে। চাচার জমিতে ঘর তুলে থাকে তারা।
সরজমিনে মেধাবি জুলেখার বাড়ি গেলে কথা হয় তার মা শেফালি বেগমের সাথে। তিনি বলেন, বনিবনা না হওয়ায় জুলেখার বড় ভাই (বৈমাত্রের ছেলে) আমাদের ঘর থেকে বের করে দিয়েছে। এখন আমরা প্রতিবেশি দেবরের জায়গায় ঘর করে আছি। অনেক কষ্ট করে জুলেখার বড় দুটি বোনের বিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন জুলেখার বৃদ্ধ বাবা মো. জাহির উদ্দীনকে নিয়ে কোনো রকমে বেঁচে আছি আমরা। জুলেখার সাথে কথা হলে সে জানায়, বাবা অনেক কষ্ট করেন আমার জন্য। অন্যের কৃষি জমিতে দিনমজুরী করে আয় করেন। যেদিন কাজ থাকে না,সেদিন কখনো কখনো উপোষ থাকতে হয় আমাদের। পরীক্ষার দিনগুলোতে খাবার নিয়ে কোনো কষ্ট হয় নাই। পরীক্ষার কথা জেনে প্রতিবেশী চাচী ভাত,তরকারি পাঠাতেন। সে জানায়, বাড়ি থেকে স্কুল অনেক দূরে। বৃত্তির টাকা জমিয়ে একটি সাইকেল কিনেছিলাম। সেই সাইকেলে চেপে প্রতিদিন ৫ কিলোমিটার সড়ক পাড়ি দিয়ে স্কুলে গিয়েছি। কষ্ট করে আজ এতদুর এসেছি। ইচ্ছা আছে উচ্চ শিক্ষা অর্জন করে চিকিৎসক হওয়া। কিন্তু আমার বাবার সে সমর্থ নেই, তাই হতাশ হয়ে পড়েছি। তার ভালো ফলাফলের ব্যাপারে জানতে চাইলে, সে জানায়, স্কুলের অধ্যক্ষ রেজাউল করিম স্যার আমাকে অনেকভাবে সহযোগিতা করেছেন। ক্লাস সিক্স থেকে স্কুলে বিনা বেতনে পড়েছি। শ্রেণি শিক্ষক রেহেনা বেগম ম্যাডাম প্রতিদিন লেখাপড়া বুঝিয়ে দিতেন। এছাড়াও আমি সকল স্যারদের সহযোগিতা পাওয়ায় ভালো ফল করতে পেরেছি।
স্কুলে কথা হয় শ্রেণি শিক্ষক রেহেনা বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, লেখাপড়ায় প্রচন্ড আগ্রহী জুলেখা। সে আমাকে বলতো, বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফুটাতে চাই, তাই ভালো ফলাফল করতেই হবে। আমি ভবিষ্যতে ভালো চিকিৎসক হতে চাই।
লক্ষণপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. রেজাউল করিম বলেন, দারিদ্র্যরে সঙ্গে লড়াই করা জুলেখার জন্য সকলের দোয়া চাই। ওর ভালো ফলাফলের পেছনে সব কৃতিত্ব তার নিজেরই। রাত জেগে খেয়ে না খেয়ে পড়াশুনা করতো মেয়েটি। উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে তার যেন কোনো বাঁধা নাআসে সেজন্য দোয়া করি আল্লাহর কাছে।

আপনার মতামত লিখুন