দৈনিক আলাপন

পীরগঞ্জ থানার ওসির বিরুদ্ধে ধর্ষণসহ একাধিক অভিযোগে মামলা না নেওয়ার অভিযোগ



পীরগঞ্জ থানার ওসির বিরুদ্ধে ধর্ষণসহ একাধিক অভিযোগে মামলা না নেওয়ার অভিযোগ

 রংপুর জেলার পীরগঞ্জ থানা পুলিশের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, নির্যাতন ও অপহরণের শিকার একাধিক ভুক্তভোগীর মামলা না নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। তদন্ত ছাড়াই এজাহার সম্পর্কে ওসির মনগড়া মন্তব্য অপরাধীদের উৎসাহিত করছে বলেও অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

একাধিক অভিযোগ ও ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান ওসি নজমুল হক পীরগঞ্জ থানায় যোগদানের পর থেকেই তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা না নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার না করা, তুচ্ছ ঘটনায় মামলা গ্রহণ, মামলার তদন্তে গড়িমসি, অপরাধীদের সাথে সখ্যতাসহ নানাবিধ অভিযোগ রয়েছে। অথচ প্রকাশ্য দিবালোকে ঘটিত অসংখ্য ঘটনাকে তিনি আড়াল করে মামলা নিচ্ছেন না। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ও ভুক্তভোগীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তার মনগড়া মন্তব্যেও মামলার বাদী-বিবাদী, আসামিরাও বেকায়দায় পড়ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত জুলাইয়ে উপজেলার কাবিলপুর ইউনিয়নের বিটিসি এলাকায় এক ভাড়াটিয়া মহিলাকে তার বাসা মালিক কাজল মিয়া (৪৫) ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ ওঠে। একই মাসে বড়দরগা ইউনিয়নেও পঞ্চাশোর্ধ এক প্রতিবন্ধী মহিলাকে ৫ জন মিলে গণধর্ষণ করে অভিযোগ পাওয়া যায়। মাদারগঞ্জ এলাকায় প্রবাসীর স্ত্রী নাসরিন বেগমকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় থানায় এজাহার দিলেও ওসি নজমুল হক মামলাগুলো নেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।

মাদারগঞ্জে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের বিষয়টি মিঠিপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের মাধ্যমে দফারফা করার জন্য ওসি পরামর্শ দেন। পরে চেয়ারম্যান ৭ লক্ষ টাকায় বিষয়টি নিষ্পত্তি করে দেন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হয়।

গত মাসের ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে মিঠিপুর ইউনিয়নের কাশিমপুরের মোশাররফ হোসেন মালেককে জমিজমা সংক্রান্ত ঘটনায় প্রতিপক্ষের লোকজন প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে রক্তাক্ত করে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে মাথায় ২৬টি সেলাই দেয়া হয়। তার শারিরীক অবস্থার অবনতি ঘটলে পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়।

ওই ঘটনায় মালেক মিয়া থানায় এজাহার দিলে ওসি মামলা নেয়নি। উল্টো ভুক্তভোগী মালেক নিজেই ব্লেড দিয়ে মাথা কেটে সেলাইগুলো করে মামলার ঘটনা সাজিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন ওসি নজমুল হক। একই কথা তিনি এই প্রতিবেদককেও বলেন।

উপজেলার পাটগ্রাম নয়াপাড়ায় যৌতুকের জন্য স্বামী রিপন মিয়া তার স্ত্রী আসমাউল হুসনা দিশাকে মারপিট করে ঘরে টানা ৪ দিন অবরুদ্ধ করে রাখে বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেয়ার পর ৩ আগষ্ট এসআই দেলওয়ার হোসেনের নেতৃত্বে ওই অবরুদ্ধাকে উদ্ধার করলেও ওসি সেই ঘটনায় ভুক্তভোগী মামলাটি নথি ভুক্ত করেনি।

গুর্জিপাড়ার চাপাবাড়ী গ্রামের বৃদ্ধ নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে শিশু ধর্ষণ চেষ্টার মামলা নিয়েছেন ওসি। অথচ ধর্ষণের মামলা নিচ্ছে না। সম্প্রতি চতরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া প্রকাশ্য দিবালোকে এক স্কুলশিক্ষককে অপহরণের পর মারপিট করে বেঁধে রাখে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আহত শিক্ষককে উদ্ধার করে। মারপিটের শিকার শিক্ষক এজাহার দিলেও মামলা নেয়নি। ফলে ওই ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা চতরাহাটে জিয়াকে গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে।

এরকম একাধিক ফৌজদারি অপরাধের ঘটনায় এজাহার ও অভিযোগ নিয়ে থানায় ঘুরলেও মামলা নেয়া হচ্ছে না, এমন দাবি করছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের অভিযোগ, ওসির এমন নির্লিপ্ততার কারণে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতিও ঘটেছে। অপরাধীদের অনেকেই ওসিকে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে পারও পেয়ে যাচ্ছে। এতে করে একই ধরনের অপরাধ বারবার সংঘটিত হবার আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।  

এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে মুঠোফোনে কথা হলে পীরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হক বলেন, মামলা নেয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন। ভুক্তভোগীরা নিজেরাই আপোস-মীমাংসা করলে পুলিশ কি করবে। আবার কিছু ঘটনা আছে সাজানো, যেমন মোশাররফ নিজেই ব্লেড দিয়ে তার মাথা কেটে সেলাই করেছিল। এটা আমরা তদন্ত করে সত্যতা পেয়েছি।

ওসি আরও বলেন, এসব অভিযোগের ব্যাখ্যা জানতে চাইলে থানায় আসেন, আমি আপনাকে ব্যাখ্যা দিবো। অহেতুক মনগড়া অভিযোগ করলে হবে না। 

আপনার মতামত লিখুন

 দৈনিক আলাপন

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


পীরগঞ্জ থানার ওসির বিরুদ্ধে ধর্ষণসহ একাধিক অভিযোগে মামলা না নেওয়ার অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

 রংপুর জেলার পীরগঞ্জ থানা পুলিশের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, নির্যাতন ও অপহরণের শিকার একাধিক ভুক্তভোগীর মামলা না নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। তদন্ত ছাড়াই এজাহার সম্পর্কে ওসির মনগড়া মন্তব্য অপরাধীদের উৎসাহিত করছে বলেও অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

একাধিক অভিযোগ ও ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান ওসি নজমুল হক পীরগঞ্জ থানায় যোগদানের পর থেকেই তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা না নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার না করা, তুচ্ছ ঘটনায় মামলা গ্রহণ, মামলার তদন্তে গড়িমসি, অপরাধীদের সাথে সখ্যতাসহ নানাবিধ অভিযোগ রয়েছে। অথচ প্রকাশ্য দিবালোকে ঘটিত অসংখ্য ঘটনাকে তিনি আড়াল করে মামলা নিচ্ছেন না। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ও ভুক্তভোগীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তার মনগড়া মন্তব্যেও মামলার বাদী-বিবাদী, আসামিরাও বেকায়দায় পড়ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত জুলাইয়ে উপজেলার কাবিলপুর ইউনিয়নের বিটিসি এলাকায় এক ভাড়াটিয়া মহিলাকে তার বাসা মালিক কাজল মিয়া (৪৫) ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ ওঠে। একই মাসে বড়দরগা ইউনিয়নেও পঞ্চাশোর্ধ এক প্রতিবন্ধী মহিলাকে ৫ জন মিলে গণধর্ষণ করে অভিযোগ পাওয়া যায়। মাদারগঞ্জ এলাকায় প্রবাসীর স্ত্রী নাসরিন বেগমকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় থানায় এজাহার দিলেও ওসি নজমুল হক মামলাগুলো নেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।

মাদারগঞ্জে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের বিষয়টি মিঠিপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের মাধ্যমে দফারফা করার জন্য ওসি পরামর্শ দেন। পরে চেয়ারম্যান ৭ লক্ষ টাকায় বিষয়টি নিষ্পত্তি করে দেন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হয়।

গত মাসের ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে মিঠিপুর ইউনিয়নের কাশিমপুরের মোশাররফ হোসেন মালেককে জমিজমা সংক্রান্ত ঘটনায় প্রতিপক্ষের লোকজন প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে রক্তাক্ত করে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে মাথায় ২৬টি সেলাই দেয়া হয়। তার শারিরীক অবস্থার অবনতি ঘটলে পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়।

ওই ঘটনায় মালেক মিয়া থানায় এজাহার দিলে ওসি মামলা নেয়নি। উল্টো ভুক্তভোগী মালেক নিজেই ব্লেড দিয়ে মাথা কেটে সেলাইগুলো করে মামলার ঘটনা সাজিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন ওসি নজমুল হক। একই কথা তিনি এই প্রতিবেদককেও বলেন।

উপজেলার পাটগ্রাম নয়াপাড়ায় যৌতুকের জন্য স্বামী রিপন মিয়া তার স্ত্রী আসমাউল হুসনা দিশাকে মারপিট করে ঘরে টানা ৪ দিন অবরুদ্ধ করে রাখে বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেয়ার পর ৩ আগষ্ট এসআই দেলওয়ার হোসেনের নেতৃত্বে ওই অবরুদ্ধাকে উদ্ধার করলেও ওসি সেই ঘটনায় ভুক্তভোগী মামলাটি নথি ভুক্ত করেনি।

গুর্জিপাড়ার চাপাবাড়ী গ্রামের বৃদ্ধ নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে শিশু ধর্ষণ চেষ্টার মামলা নিয়েছেন ওসি। অথচ ধর্ষণের মামলা নিচ্ছে না। সম্প্রতি চতরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া প্রকাশ্য দিবালোকে এক স্কুলশিক্ষককে অপহরণের পর মারপিট করে বেঁধে রাখে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আহত শিক্ষককে উদ্ধার করে। মারপিটের শিকার শিক্ষক এজাহার দিলেও মামলা নেয়নি। ফলে ওই ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা চতরাহাটে জিয়াকে গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে।

এরকম একাধিক ফৌজদারি অপরাধের ঘটনায় এজাহার ও অভিযোগ নিয়ে থানায় ঘুরলেও মামলা নেয়া হচ্ছে না, এমন দাবি করছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের অভিযোগ, ওসির এমন নির্লিপ্ততার কারণে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতিও ঘটেছে। অপরাধীদের অনেকেই ওসিকে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে পারও পেয়ে যাচ্ছে। এতে করে একই ধরনের অপরাধ বারবার সংঘটিত হবার আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।  

এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে মুঠোফোনে কথা হলে পীরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হক বলেন, মামলা নেয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন। ভুক্তভোগীরা নিজেরাই আপোস-মীমাংসা করলে পুলিশ কি করবে। আবার কিছু ঘটনা আছে সাজানো, যেমন মোশাররফ নিজেই ব্লেড দিয়ে তার মাথা কেটে সেলাই করেছিল। এটা আমরা তদন্ত করে সত্যতা পেয়েছি।

ওসি আরও বলেন, এসব অভিযোগের ব্যাখ্যা জানতে চাইলে থানায় আসেন, আমি আপনাকে ব্যাখ্যা দিবো। অহেতুক মনগড়া অভিযোগ করলে হবে না। 


 দৈনিক আলাপন

সম্পাদক ও প্রকাশক: আমিনুল হক
নির্বাহী সম্পাদক: কাজী জাহিদ
ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোঃ নুরুন্নবী।

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
পীরগঞ্জ থানার ওসির বিরুদ্ধে ধর্ষণসহ একাধিক অভিযোগে মামলা না নেওয়ার অভিযোগ
0:00 / 0:00
1x