আসন্ন ইউপি নিবাচনে সম্ভাব্য প্রাথীরা ব্যাপক গণসংযোগ শুরু করলেও কুড়িগ্রামে শতাধিক এমপিওভুক্ত শিক্ষক নিবাচনে অংশগ্রহন নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। সম্ভাব্য প্রাথীদের কেউ কেউ বতমানে চেয়ারম্যান ও মেম্বার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া অনেকেই এলাকায় যথেষ্ট জনপ্রিয় ও নিবাচনে জয়লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমথন নিয়ে নিবাচনী মাঠে সভা, সমাবেশ ও জনসংযোগে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন। কিন্তু এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নিবাচনে অংশগ্রহন থেকে বিরত রাখতে নিবাচন কমিশন বিধিমালা প্রণয়ন করছেন-এমন খবরে নড়েচড়ে বসেছেন তারা। অনেকেই চাকুরি থেকে অব্যাহতি নিয়ে নিবাচনে অংশগ্রহনের প্রত্যয় ব্যক্ত করলেও চাকুরি ছাড়তে না পারায় হতাশ হয়ে পড়েছেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা।
অনুসন্ধানে জানাযায় , বেশ কিছুদিন আগে থেকে জামায়াত ও এনসিপি বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য প্রাথীদের নাম ঘোষণা করেন। বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না করলেও স্থানীয় পযায়ে সমথন ঘোষণা ও প্রাথী বাছাইয়ের কাজ করছে। সম্ভাব্য এসকল প্রাথী এখন মাঠে রয়েছে। সম্প্রতি লাভজনক পদ বিবেচনায় এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে না-স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর এমন বক্তব্যে হোঁচট খেয়েছেন সম্ভাব্য প্রাথীরা। নিবাচনী কমকতারা জানিয়েছেন, এ সংক্রান্ত একটি খসড়া বিধিমালা অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ফলে শিক্ষকরা দীঘদিন ধরে চেয়ারম্যান ও মেম্বার পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা ও দায়িত্ব পালন করলেও আগামীতে সুযোগ হারাচ্ছেন অনেকেই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য তিন প্রাথীই এমপিওভুক্ত শিক্ষক। এরমধ্যে স্কুল শিক্ষক এমদাদুল হক মুকুল ও কলেজ শিক্ষক মিজানুর রহমান বিএনপি নেতা। জামায়াত সমথিত প্রাথী মাহবুবুর রহমান একজন মাদ্রাসা শিক্ষক। তাদের সকলরই নিবাচনে অংশগ্রহন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অথচ তারা আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য ইতি মধ্যে মাঠ চষে বেড়াচ্ছিলেন।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউপি নিবাচনের সম্ভাব্য প্রাথী মাদ্রাসা শিক্ষক ও বতমান ইউপি সদস্য ফিরোজ আক্তার দুলু জানান, দীঘদিন ধরে তিনি এলাকায় জনসংযোগ করছেন, নিবাচনে বিজয়ের ব্যাপারে যথেষ্ট আশাবাদী। কিন্তু চাকুরি ত্যাগ করে নিবাচন করা সম্ভব হবে না।
তবে অনেক সম্ভাব্য প্রাথীপ্রয়োজনে চাকুরি থেকে ইস্তফা দিয়ে নিবাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছে সদর উপজেলার ভোগডাঙা ইউপির বতমান চেয়ারম্যান বিএনপির সমথিত প্রাথীও একটি স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান সাইদুর রহমান এবং কাঁঠালবাড়ী ইউপির ইসলামী আন্দোলন সমথিত প্রাথী কলেজ শিক্ষক সৈয়দ সাজ্জাদুর রহমান। তাদের চাকুরি মেয়াদ প্রায় শেষ হওয়ায় তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তবে ঘোগাদহ ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি সমথিত প্রাথী একটি এমপিওভুক্ত স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক চাকুরি না ছাড়ার কথা জানিয়ে বলেছেন, শিক্ষকদের শুধু নিবাচন নয়, রাজনীতি থেকে অংশগ্রহন নিষিদ্ধ করতে না পারলে কার্যকর ফল আসবেনা।
নাগেশ্বরী উপজেলার হাসনাবাদ ইউপির সম্ভাব্য প্রাথী মো: নুরুজ্জামান, ভুরুঙ্গামারী উপজেলার বলদিয়া ইউপির মোখলেছুর রহমান, উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউপির আবুল হোসেনসহ অনেক এমপিওভুক্ত শিক্ষক সরকার ও নিবাচন কমিশনের সবশেষ সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন। সিদ্ধান্ত তাদের প্রতিকূলে গেল কেউ কেউ সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোটে রীট পিটিশন করারও কথা ভাবছেন বলে জানিয়েছেন। ভোটার, রাজনৈতিক নেতা ও সুশীল সমাজের মধ্যে এ নিয়ে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
জেলা নিবাচন কমকতা মো: আলমগীর জানিয়েছেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নিবাচনে অংশগ্রহন নিষিদ্ধ করে একটি খসড়া বিধিমালা তৈরী করা হয়েছে। তবে বিধিমালা অনুমোদন ও জারি না হলে এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করা ঠিক হবে না।

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আসন্ন ইউপি নিবাচনে সম্ভাব্য প্রাথীরা ব্যাপক গণসংযোগ শুরু করলেও কুড়িগ্রামে শতাধিক এমপিওভুক্ত শিক্ষক নিবাচনে অংশগ্রহন নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। সম্ভাব্য প্রাথীদের কেউ কেউ বতমানে চেয়ারম্যান ও মেম্বার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া অনেকেই এলাকায় যথেষ্ট জনপ্রিয় ও নিবাচনে জয়লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমথন নিয়ে নিবাচনী মাঠে সভা, সমাবেশ ও জনসংযোগে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন। কিন্তু এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নিবাচনে অংশগ্রহন থেকে বিরত রাখতে নিবাচন কমিশন বিধিমালা প্রণয়ন করছেন-এমন খবরে নড়েচড়ে বসেছেন তারা। অনেকেই চাকুরি থেকে অব্যাহতি নিয়ে নিবাচনে অংশগ্রহনের প্রত্যয় ব্যক্ত করলেও চাকুরি ছাড়তে না পারায় হতাশ হয়ে পড়েছেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা।
অনুসন্ধানে জানাযায় , বেশ কিছুদিন আগে থেকে জামায়াত ও এনসিপি বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য প্রাথীদের নাম ঘোষণা করেন। বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না করলেও স্থানীয় পযায়ে সমথন ঘোষণা ও প্রাথী বাছাইয়ের কাজ করছে। সম্ভাব্য এসকল প্রাথী এখন মাঠে রয়েছে। সম্প্রতি লাভজনক পদ বিবেচনায় এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে না-স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর এমন বক্তব্যে হোঁচট খেয়েছেন সম্ভাব্য প্রাথীরা। নিবাচনী কমকতারা জানিয়েছেন, এ সংক্রান্ত একটি খসড়া বিধিমালা অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ফলে শিক্ষকরা দীঘদিন ধরে চেয়ারম্যান ও মেম্বার পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা ও দায়িত্ব পালন করলেও আগামীতে সুযোগ হারাচ্ছেন অনেকেই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য তিন প্রাথীই এমপিওভুক্ত শিক্ষক। এরমধ্যে স্কুল শিক্ষক এমদাদুল হক মুকুল ও কলেজ শিক্ষক মিজানুর রহমান বিএনপি নেতা। জামায়াত সমথিত প্রাথী মাহবুবুর রহমান একজন মাদ্রাসা শিক্ষক। তাদের সকলরই নিবাচনে অংশগ্রহন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অথচ তারা আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য ইতি মধ্যে মাঠ চষে বেড়াচ্ছিলেন।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউপি নিবাচনের সম্ভাব্য প্রাথী মাদ্রাসা শিক্ষক ও বতমান ইউপি সদস্য ফিরোজ আক্তার দুলু জানান, দীঘদিন ধরে তিনি এলাকায় জনসংযোগ করছেন, নিবাচনে বিজয়ের ব্যাপারে যথেষ্ট আশাবাদী। কিন্তু চাকুরি ত্যাগ করে নিবাচন করা সম্ভব হবে না।
তবে অনেক সম্ভাব্য প্রাথীপ্রয়োজনে চাকুরি থেকে ইস্তফা দিয়ে নিবাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছে সদর উপজেলার ভোগডাঙা ইউপির বতমান চেয়ারম্যান বিএনপির সমথিত প্রাথীও একটি স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান সাইদুর রহমান এবং কাঁঠালবাড়ী ইউপির ইসলামী আন্দোলন সমথিত প্রাথী কলেজ শিক্ষক সৈয়দ সাজ্জাদুর রহমান। তাদের চাকুরি মেয়াদ প্রায় শেষ হওয়ায় তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তবে ঘোগাদহ ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি সমথিত প্রাথী একটি এমপিওভুক্ত স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক চাকুরি না ছাড়ার কথা জানিয়ে বলেছেন, শিক্ষকদের শুধু নিবাচন নয়, রাজনীতি থেকে অংশগ্রহন নিষিদ্ধ করতে না পারলে কার্যকর ফল আসবেনা।
নাগেশ্বরী উপজেলার হাসনাবাদ ইউপির সম্ভাব্য প্রাথী মো: নুরুজ্জামান, ভুরুঙ্গামারী উপজেলার বলদিয়া ইউপির মোখলেছুর রহমান, উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউপির আবুল হোসেনসহ অনেক এমপিওভুক্ত শিক্ষক সরকার ও নিবাচন কমিশনের সবশেষ সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন। সিদ্ধান্ত তাদের প্রতিকূলে গেল কেউ কেউ সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোটে রীট পিটিশন করারও কথা ভাবছেন বলে জানিয়েছেন। ভোটার, রাজনৈতিক নেতা ও সুশীল সমাজের মধ্যে এ নিয়ে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
জেলা নিবাচন কমকতা মো: আলমগীর জানিয়েছেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নিবাচনে অংশগ্রহন নিষিদ্ধ করে একটি খসড়া বিধিমালা তৈরী করা হয়েছে। তবে বিধিমালা অনুমোদন ও জারি না হলে এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করা ঠিক হবে না।

আপনার মতামত লিখুন