নীলফামারীর সৈয়দপুর প্লাজা সুপার মার্কেটে একই দিনে দুইটি দোকানে চুরির ঘটনায় প্লাজা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘এস আর ট্রেডিং’-এর বিরুদ্ধে নিরাপত্তায় অবহেলার অভিযোগ তুলে প্রায় ৮০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত দুই ব্যবসায়ী। একই সঙ্গে চুরির ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত, গ্রেপ্তার এবং চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে সৈয়দপুর প্লাজা মার্কেটে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান সৈয়দপুর প্লাজার ইনফিনিক্স সেল পয়েন্ট এর স্বত্বাধিকারী আহাদ আহমেদ এবং বিদ্যুৎ জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী মোঃ আসিফ খাঁন টিপু। আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন সৈয়দপুর প্লাজা সুপারমার্কেট ব্যবসায়ীবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আহাদ আহমেদ বলেন, গত ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ৮টা ২৯ মিনিটে সৈয়দপুর প্লাজার এম-১০/১১ নম্বর দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। কয়েক মিনিটের মধ্যে চোরের দল দোকান থেকে প্রায় ৮০টি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন নিয়ে যায়। এসব মোবাইলের বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা বলে দাবি করেন তিনি।
তার অভিযোগ, প্লাজার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিকিউরিটি গার্ডদের দায়িত্বে অবহেলার সুযোগেই চোরেরা দোকানে প্রবেশ করে। ওই সময় প্রথম ভবনের ১৩টি করিডোরের বিপরীতে প্রথম তলায় মাত্র দুজন প্রবীণ নিরাপত্তাকর্মী দায়িত্বে ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
আহাদ আহমেদ আরও বলেন, ব্যবসায়ীরা নিয়মিত সার্ভিস চার্জ পরিশোধ করে আসছেন। সেই হিসেবে মার্কেটের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্লাজা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। কিন্তু চুরির পর থেকে এখন পর্যন্ত প্লাজা কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল কেউ তাদের সঙ্গে দেখা করেননি কিংবা কোনো ধরনের সমবেদনা জানাননি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে বিদ্যুৎ জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী মোঃ আসিফ খাঁন টিপু বলেন, একই দিন সকাল আনুমানিক ৮টা ৫২ মিনিটে তার দোকানেও চুরি হয়। দোকানে পাইকারি বিক্রয়ের জন্য রাখা বিপুল পরিমাণ রুপা ও অলংকার চুরি করে নিয়ে যায় চোরের দল। এতে প্রায় ৪৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, দুই ব্যবসায়ীর দোকানে একই সকালে চুরির ঘটনায় প্লাজার নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নিয়মিত সার্ভিস চার্জ নেওয়া হলেও চুরির পর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো যোগাযোগ বা সহযোগিতা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে দুই ব্যবসায়ী বলেন, তাদের দাবি পূরণে ‘এস আর ট্রেডিং’-এর চেয়ারম্যান শামসুল হক ভূঁইয়া, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফায়সাল নাফিসসহ সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। তাদের দাবি, দুই দোকানের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮০ লাখ টাকা এবং এই ক্ষতিপূরণ প্লাজা কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হবে।
এ ছাড়া চুরির ঘটনার কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও চোর শনাক্ত, গ্রেপ্তার কিংবা চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারে প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে তারা স্পষ্ট কোনো অগ্রগতি বা আশ্বাস পাননি বলেও অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীরা।
তারা দ্রুত চোরদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারের পাশাপাশি প্লাজা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের দাবি জানান। দাবি পূরণ না হলে প্লাজার অন্যান্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়ে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দপুর প্লাজা ব্যবসায়ী কমিটির আহ্বায়ক মোশাররফ হোসেন , যুগ্ম আহ্বায়ক রুবেল হোসেন, সৈয়দপুর প্লাজা ব্যাবসায়ীর সাবেক সভাপতি শেখ কুতুব উদ্দিন, ,সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম মোনির হোসেন সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন মনু প্রমুখ।

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নীলফামারীর সৈয়দপুর প্লাজা সুপার মার্কেটে একই দিনে দুইটি দোকানে চুরির ঘটনায় প্লাজা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘এস আর ট্রেডিং’-এর বিরুদ্ধে নিরাপত্তায় অবহেলার অভিযোগ তুলে প্রায় ৮০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত দুই ব্যবসায়ী। একই সঙ্গে চুরির ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত, গ্রেপ্তার এবং চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে সৈয়দপুর প্লাজা মার্কেটে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান সৈয়দপুর প্লাজার ইনফিনিক্স সেল পয়েন্ট এর স্বত্বাধিকারী আহাদ আহমেদ এবং বিদ্যুৎ জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী মোঃ আসিফ খাঁন টিপু। আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন সৈয়দপুর প্লাজা সুপারমার্কেট ব্যবসায়ীবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আহাদ আহমেদ বলেন, গত ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ৮টা ২৯ মিনিটে সৈয়দপুর প্লাজার এম-১০/১১ নম্বর দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। কয়েক মিনিটের মধ্যে চোরের দল দোকান থেকে প্রায় ৮০টি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন নিয়ে যায়। এসব মোবাইলের বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা বলে দাবি করেন তিনি।
তার অভিযোগ, প্লাজার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিকিউরিটি গার্ডদের দায়িত্বে অবহেলার সুযোগেই চোরেরা দোকানে প্রবেশ করে। ওই সময় প্রথম ভবনের ১৩টি করিডোরের বিপরীতে প্রথম তলায় মাত্র দুজন প্রবীণ নিরাপত্তাকর্মী দায়িত্বে ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
আহাদ আহমেদ আরও বলেন, ব্যবসায়ীরা নিয়মিত সার্ভিস চার্জ পরিশোধ করে আসছেন। সেই হিসেবে মার্কেটের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্লাজা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। কিন্তু চুরির পর থেকে এখন পর্যন্ত প্লাজা কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল কেউ তাদের সঙ্গে দেখা করেননি কিংবা কোনো ধরনের সমবেদনা জানাননি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে বিদ্যুৎ জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী মোঃ আসিফ খাঁন টিপু বলেন, একই দিন সকাল আনুমানিক ৮টা ৫২ মিনিটে তার দোকানেও চুরি হয়। দোকানে পাইকারি বিক্রয়ের জন্য রাখা বিপুল পরিমাণ রুপা ও অলংকার চুরি করে নিয়ে যায় চোরের দল। এতে প্রায় ৪৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, দুই ব্যবসায়ীর দোকানে একই সকালে চুরির ঘটনায় প্লাজার নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নিয়মিত সার্ভিস চার্জ নেওয়া হলেও চুরির পর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো যোগাযোগ বা সহযোগিতা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে দুই ব্যবসায়ী বলেন, তাদের দাবি পূরণে ‘এস আর ট্রেডিং’-এর চেয়ারম্যান শামসুল হক ভূঁইয়া, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফায়সাল নাফিসসহ সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। তাদের দাবি, দুই দোকানের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮০ লাখ টাকা এবং এই ক্ষতিপূরণ প্লাজা কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হবে।
এ ছাড়া চুরির ঘটনার কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও চোর শনাক্ত, গ্রেপ্তার কিংবা চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারে প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে তারা স্পষ্ট কোনো অগ্রগতি বা আশ্বাস পাননি বলেও অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীরা।
তারা দ্রুত চোরদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারের পাশাপাশি প্লাজা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের দাবি জানান। দাবি পূরণ না হলে প্লাজার অন্যান্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়ে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দপুর প্লাজা ব্যবসায়ী কমিটির আহ্বায়ক মোশাররফ হোসেন , যুগ্ম আহ্বায়ক রুবেল হোসেন, সৈয়দপুর প্লাজা ব্যাবসায়ীর সাবেক সভাপতি শেখ কুতুব উদ্দিন, ,সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম মোনির হোসেন সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন মনু প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন