দৈনিক আলাপন

পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগে ৮০ ভাগ কোটার দাবি হরিজনদের



পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগে ৮০ ভাগ কোটার দাবি হরিজনদের

সারাদেশে পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগে শতকরা ৮০ ভাগ কোটা বাস্তবায়নসহ মিটফোর্ড কলোনীতে হরিজনদের উচ্ছেদ প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ হরিজন অধিকার আদায় সংগঠন। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রংপুর নগরীর সুমি কমিউনিটি সেন্টারে সংগঠনটির পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে এ দাবি জানানো হয়।

বাংলাদেশ হরিজন অধিকার আদায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সুরেশ বাঁশফোড় জানান, হরিজনরা দীর্ঘদিন ধরে রেললাইনের ধারে, মেডিকেলের পাশে, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, হাট-বাজারসহ বিভিন্ন সরকারী খাসজমিতে বংশ পরম্পরায় বসবাস করে আছে। ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের সুইপার কালোনীতে দীর্ঘ ১৬৮ বছর ধরে বসবাসরত হরিজন সম্প্রদায়কে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করেই সেখান থেকে উচ্ছেদের জন্য কর্তৃপক্ষ নোটিশ প্রদান করেছে। এ নিয়ে ওইসব পরিবারের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, হরিজনদের ছোট একটি ঘরে পরিবারের ৯ থেকে ১০ মানুষকে গাদাগাদি করে ঘুমাতে হয়। দীর্ঘদিন থেকে খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাসস্থানসহ মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত হরিজনরা মানবেতর জীবনযাপন করছে। দুর্বিষহ জীবনে মাথা গোঁজার সামান্য ঠাঁইটুকুও আবার কেড়ে নেয়া হয় নানা ছলে।

সুরেশ বাঁশফোড় জানান, সিটি কর্পোরেশন অথবা সরকারের পক্ষ থেকে নির্মাণ করে দেয়া বহুতল ভবনে শুধুমাত্র কর্মরত কর্মীরাই থাকতে পারবে। বাকিদের ঘর ছাড়া হতে হচ্ছে। চলছে এসব নিয়েও অনিয়ম-দূর্নীতি। আবার অনেকে চাইলেও এলাকার বাইরে থাকতে পারছে না। খাওয়ার কিংবা গোসলের পানি-গ্যাস-বিদ্যুৎ, পয়ঃনিষ্কাশনের সুব্যবস্থার অভাবে অমানবিক জীবনযাপন করতে হচ্ছে। একই অবস্থা টিনশেড, কাঁচাপাকা বা বহুতল সব কলোনীগুলোতে। ফলে অস্বাস্থ্যকর ঘিঞ্জি পরিবেশে বেড়ে উঠছে শিশুরা। প্রতিনিয়ত রোগাক্রান্ত হচ্ছে নারী-শিশু-বৃদ্ধরা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, হাট-বাজার, অফিস আদালতে পরিচ্ছন্নতার কাজে লক্ষ লক্ষ পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিযুক্ত রয়েছে। অথচ কোন সরকার এই শ্রমের সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করেনি। হরিজনরা যে বেতন পান, দ্রব্যমূল্য উর্ধ্বগতির বাজারে তা দিয়ে তিন বেলা খাবার জোটানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি বিভিন্ন দপ্তরে পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ হলেও সেখানে হরিজন সম্প্রদায়ের বাহিরের লোকজনকে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। ফলে হরিজনরা কর্মহীন হয়ে সমাজের মূল স্রোতধারা থেকে আরও পিছিয়ে পড়ছে।

সংবাদ সম্মেলনে অবিলম্বে পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগে হরিজনদের শতকরা ৮০ ভাগ কোটা বাস্তবায়ন, উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ করাসহ হরিজনদের পুর্নবাসনের উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।  

এসময় সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাজু বাঁশফোড়, উপদেষ্টা লিটন বাঁশফোড়, কেন্দ্রীয় নারী সম্পাদক জ্যোতি হেলা, কোষাধ্যক্ষ রুবেল বাঁশফোড়, ক্রীড়া সম্পাদক দীপক বাঁশফোড়সহ অন্যারা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

 দৈনিক আলাপন

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগে ৮০ ভাগ কোটার দাবি হরিজনদের

প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সারাদেশে পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগে শতকরা ৮০ ভাগ কোটা বাস্তবায়নসহ মিটফোর্ড কলোনীতে হরিজনদের উচ্ছেদ প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ হরিজন অধিকার আদায় সংগঠন। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রংপুর নগরীর সুমি কমিউনিটি সেন্টারে সংগঠনটির পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে এ দাবি জানানো হয়।

বাংলাদেশ হরিজন অধিকার আদায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সুরেশ বাঁশফোড় জানান, হরিজনরা দীর্ঘদিন ধরে রেললাইনের ধারে, মেডিকেলের পাশে, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, হাট-বাজারসহ বিভিন্ন সরকারী খাসজমিতে বংশ পরম্পরায় বসবাস করে আছে। ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের সুইপার কালোনীতে দীর্ঘ ১৬৮ বছর ধরে বসবাসরত হরিজন সম্প্রদায়কে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করেই সেখান থেকে উচ্ছেদের জন্য কর্তৃপক্ষ নোটিশ প্রদান করেছে। এ নিয়ে ওইসব পরিবারের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, হরিজনদের ছোট একটি ঘরে পরিবারের ৯ থেকে ১০ মানুষকে গাদাগাদি করে ঘুমাতে হয়। দীর্ঘদিন থেকে খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাসস্থানসহ মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত হরিজনরা মানবেতর জীবনযাপন করছে। দুর্বিষহ জীবনে মাথা গোঁজার সামান্য ঠাঁইটুকুও আবার কেড়ে নেয়া হয় নানা ছলে।

সুরেশ বাঁশফোড় জানান, সিটি কর্পোরেশন অথবা সরকারের পক্ষ থেকে নির্মাণ করে দেয়া বহুতল ভবনে শুধুমাত্র কর্মরত কর্মীরাই থাকতে পারবে। বাকিদের ঘর ছাড়া হতে হচ্ছে। চলছে এসব নিয়েও অনিয়ম-দূর্নীতি। আবার অনেকে চাইলেও এলাকার বাইরে থাকতে পারছে না। খাওয়ার কিংবা গোসলের পানি-গ্যাস-বিদ্যুৎ, পয়ঃনিষ্কাশনের সুব্যবস্থার অভাবে অমানবিক জীবনযাপন করতে হচ্ছে। একই অবস্থা টিনশেড, কাঁচাপাকা বা বহুতল সব কলোনীগুলোতে। ফলে অস্বাস্থ্যকর ঘিঞ্জি পরিবেশে বেড়ে উঠছে শিশুরা। প্রতিনিয়ত রোগাক্রান্ত হচ্ছে নারী-শিশু-বৃদ্ধরা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, হাট-বাজার, অফিস আদালতে পরিচ্ছন্নতার কাজে লক্ষ লক্ষ পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিযুক্ত রয়েছে। অথচ কোন সরকার এই শ্রমের সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করেনি। হরিজনরা যে বেতন পান, দ্রব্যমূল্য উর্ধ্বগতির বাজারে তা দিয়ে তিন বেলা খাবার জোটানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি বিভিন্ন দপ্তরে পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ হলেও সেখানে হরিজন সম্প্রদায়ের বাহিরের লোকজনকে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। ফলে হরিজনরা কর্মহীন হয়ে সমাজের মূল স্রোতধারা থেকে আরও পিছিয়ে পড়ছে।

সংবাদ সম্মেলনে অবিলম্বে পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগে হরিজনদের শতকরা ৮০ ভাগ কোটা বাস্তবায়ন, উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ করাসহ হরিজনদের পুর্নবাসনের উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।  

এসময় সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাজু বাঁশফোড়, উপদেষ্টা লিটন বাঁশফোড়, কেন্দ্রীয় নারী সম্পাদক জ্যোতি হেলা, কোষাধ্যক্ষ রুবেল বাঁশফোড়, ক্রীড়া সম্পাদক দীপক বাঁশফোড়সহ অন্যারা উপস্থিত ছিলেন।


 দৈনিক আলাপন

সম্পাদক ও প্রকাশক: আমিনুল হক
নির্বাহী সম্পাদক: কাজী জাহিদ
ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোঃ নুরুন্নবী।

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগে ৮০ ভাগ কোটার দাবি হরিজনদের
0:00 / 0:00
1x