জাতীয় জীবনে কাজী নজরুল ইসলামের চর্চা ও আদর্শ অনুসরণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে "জাতীয় জীবনে নজরুল চর্চার অপরিহার্যতা" শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 'নজরুল বর্ষ' উদযাপন উপলক্ষ্যে ১০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় কিশোরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আরিফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারীর জেলা প্রশাসক জনাব মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বরেণ্য কবি, নজরুল গবেষক, দৈনিক যুগান্তর-এর সম্পাদক এবং নজরুল ইনস্টিটিউটের সাবেক নির্বাহী পরিচালক জনাব আবদুল হাই শিকদার।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে কবি ও নজরুল গবেষক আবদুল হাই শিকদার নজরুলের জীবনের নানা ঐতিহাসিক দিক এবং জাতীয় জীবনে তাঁর অপরিসীম অবদানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ, দেশের স্বাধীনতা এবং কাজী নজরুল ইসলাম এক ও অবিচ্ছেদ্য সত্তা। বাঙালি মুসলমান ও পূর্ব বাংলার সাধারণ মানুষের প্রকৃত নবজাগরণ ঘটেছিল নজরুলের লেখনীর মধ্য দিয়েই।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কাজী নজরুল ইসলামকে প্রথম বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন এবং ধানমন্ডি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণ পর্যন্ত সড়কটিকে 'কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ' নামকরণের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করেছিলেন। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলে নজরুল স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালে 'জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়' প্রতিষ্ঠিত হয়। ধারাবাহিকতায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্তৃক চলতি বছরকে 'নজরুল বর্ষ' হিসেবে ঘোষণা করাকে বিশ্ব ইতিহাসে অনন্য নজির বলে মন্তব্য করা হয়।
বিশ্বসাহিত্যের প্রসংগ টেনে আলোচক বলেন, বিংশ শতাব্দীর বিশ্বসাহিত্যে নজরুলের মতো বহুমুখী প্রতিভা বিরল। কবিতা, গান, উপন্যাস ও রেনেসাঁ সৃষ্টিতে তাঁর অবদান কালজয়ী। গানকে তিনি যেভাবে ১৮টি নতুন রাগ এবং ২৮৫ প্রকারের রাগের ওপর ভিত্তি করে সমৃদ্ধ করেছেন, তা সংগীতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তাঁর রচিত 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ এবং 'বিদ্রোহী' কবিতা বাংলা সাহিত্যে স্বাধীনতা ও প্রতিবাদের চিরন্তন প্রতীক হয়ে আছে।
১৯২৯ সালে মাত্র ৩০ বছর বয়সে কলকাতার অ্যালবার্ট হলে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে নজরুলকে জাতীয় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। বিজ্ঞানীদের শ্রেষ্ঠ স্যার আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়, নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু এবং শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এতে উপস্থিত ছিলেন। সুভাষচন্দ্র ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, জেল-জুলুম ও দৈনন্দিন সংগ্রামে নজরুলের কবিতাকে শক্তি ও প্রেরণার মূল উৎস হিসেবে আখ্যা দেন। প্রফুল্ল চন্দ্র রায় নজরুলের লেখাকে ফরাসি বিপ্লবের মতো বাঙালি জাতিকে অতিমানবে পরিণত করার উপাদান হিসেবে বর্ণনা করেন।
জাতীয় কবি তিনিই হন, যার লেখায় একটি জাতির ইতিহাস, সংস্কৃতি, সংগ্রাম, ঘাম ও স্বপ্ন প্রতিফলিত হয়। বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ ও শোষণের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নজরুলই ছিলেন মূল হাতিয়ার।
নজরুল সর্বজনীন কবি। তিনি যেমন শ্যামাসঙ্গীত, ভজন ও কীর্তন লিখেছেন, তেমনি হামদ-নাত ও ইসলামী গান রচনা করেছেন। সমাজের সব শ্রেণীর মানুষের সংগ্রাম, মানবতা, নারী মুক্তি এবং স্বাধীনতার জন্য তাঁর লেখনী অনন্য।
সংবর্ধনা ও জাতীয় ঐক্যের প্রসঙ্গে 'বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ'-এর গুরুত্ব অপরিসীম, যা উপজাতি, বিহারী সহ সকল জনগোষ্ঠীর স্ব-পরিচয় রক্ষা করে রাষ্ট্রীয় ঐক্যের ছাতা প্রদান করে।
একইভাবে, কাজী নজরুল ইসলাম এমন এক সর্বজনীন প্রতীক, যার সৃষ্টিতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের অধিকার ও স্থান নিশ্চিত রয়েছে। রাষ্ট্রের অখণ্ডতা ও জাতীয় সংহতি রক্ষায় নজরুলের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক চেতনা অপরিহার্য।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নীলফামারীর জেলা প্রশাসক জনাব মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, নজরুল চর্চাটা যাতে আমরা অব্যাহত রাখি। উনার সাহিত্য, গান সবকিছু যাতে আমরা আমাদের প্রজন্মকে শেখাই, অত্যন্ত এই নির্যাসটুকু নিয়ে তারা যাতে জীবন গঠন করে। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য উপস্থাপন করেন যমুনা টেলিভিশনের রংপুর ব্যুরো প্রধান ও বৃহত্তর রংপুরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জনাব সরকার মাজহারুল মান্নান।
অঅলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, উপজেলা কৃষি অফিসার লোকমান আলম, উপজেলা জামায়াতের আমীর আব্দুর রশিদ শাহ, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম ডালিম ও জাসাস নেতা সাইফুল ইসলাম।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আরিফুর রহমান উপস্থিতি সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং তরুণ প্রজন্মকে জাতীয় কবির সাহিত্য, সংগীত ও সমাজচেতনার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশ গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, সংবাদকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। সভার শুরুতে অতিথিদের উত্তরীয় পড়ানো হয়।

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতীয় জীবনে কাজী নজরুল ইসলামের চর্চা ও আদর্শ অনুসরণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে "জাতীয় জীবনে নজরুল চর্চার অপরিহার্যতা" শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 'নজরুল বর্ষ' উদযাপন উপলক্ষ্যে ১০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় কিশোরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আরিফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারীর জেলা প্রশাসক জনাব মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বরেণ্য কবি, নজরুল গবেষক, দৈনিক যুগান্তর-এর সম্পাদক এবং নজরুল ইনস্টিটিউটের সাবেক নির্বাহী পরিচালক জনাব আবদুল হাই শিকদার।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে কবি ও নজরুল গবেষক আবদুল হাই শিকদার নজরুলের জীবনের নানা ঐতিহাসিক দিক এবং জাতীয় জীবনে তাঁর অপরিসীম অবদানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ, দেশের স্বাধীনতা এবং কাজী নজরুল ইসলাম এক ও অবিচ্ছেদ্য সত্তা। বাঙালি মুসলমান ও পূর্ব বাংলার সাধারণ মানুষের প্রকৃত নবজাগরণ ঘটেছিল নজরুলের লেখনীর মধ্য দিয়েই।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কাজী নজরুল ইসলামকে প্রথম বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন এবং ধানমন্ডি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণ পর্যন্ত সড়কটিকে 'কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ' নামকরণের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করেছিলেন। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলে নজরুল স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালে 'জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়' প্রতিষ্ঠিত হয়। ধারাবাহিকতায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্তৃক চলতি বছরকে 'নজরুল বর্ষ' হিসেবে ঘোষণা করাকে বিশ্ব ইতিহাসে অনন্য নজির বলে মন্তব্য করা হয়।
বিশ্বসাহিত্যের প্রসংগ টেনে আলোচক বলেন, বিংশ শতাব্দীর বিশ্বসাহিত্যে নজরুলের মতো বহুমুখী প্রতিভা বিরল। কবিতা, গান, উপন্যাস ও রেনেসাঁ সৃষ্টিতে তাঁর অবদান কালজয়ী। গানকে তিনি যেভাবে ১৮টি নতুন রাগ এবং ২৮৫ প্রকারের রাগের ওপর ভিত্তি করে সমৃদ্ধ করেছেন, তা সংগীতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তাঁর রচিত 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ এবং 'বিদ্রোহী' কবিতা বাংলা সাহিত্যে স্বাধীনতা ও প্রতিবাদের চিরন্তন প্রতীক হয়ে আছে।
১৯২৯ সালে মাত্র ৩০ বছর বয়সে কলকাতার অ্যালবার্ট হলে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে নজরুলকে জাতীয় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। বিজ্ঞানীদের শ্রেষ্ঠ স্যার আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়, নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু এবং শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এতে উপস্থিত ছিলেন। সুভাষচন্দ্র ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, জেল-জুলুম ও দৈনন্দিন সংগ্রামে নজরুলের কবিতাকে শক্তি ও প্রেরণার মূল উৎস হিসেবে আখ্যা দেন। প্রফুল্ল চন্দ্র রায় নজরুলের লেখাকে ফরাসি বিপ্লবের মতো বাঙালি জাতিকে অতিমানবে পরিণত করার উপাদান হিসেবে বর্ণনা করেন।
জাতীয় কবি তিনিই হন, যার লেখায় একটি জাতির ইতিহাস, সংস্কৃতি, সংগ্রাম, ঘাম ও স্বপ্ন প্রতিফলিত হয়। বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ ও শোষণের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নজরুলই ছিলেন মূল হাতিয়ার।
নজরুল সর্বজনীন কবি। তিনি যেমন শ্যামাসঙ্গীত, ভজন ও কীর্তন লিখেছেন, তেমনি হামদ-নাত ও ইসলামী গান রচনা করেছেন। সমাজের সব শ্রেণীর মানুষের সংগ্রাম, মানবতা, নারী মুক্তি এবং স্বাধীনতার জন্য তাঁর লেখনী অনন্য।
সংবর্ধনা ও জাতীয় ঐক্যের প্রসঙ্গে 'বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ'-এর গুরুত্ব অপরিসীম, যা উপজাতি, বিহারী সহ সকল জনগোষ্ঠীর স্ব-পরিচয় রক্ষা করে রাষ্ট্রীয় ঐক্যের ছাতা প্রদান করে।
একইভাবে, কাজী নজরুল ইসলাম এমন এক সর্বজনীন প্রতীক, যার সৃষ্টিতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের অধিকার ও স্থান নিশ্চিত রয়েছে। রাষ্ট্রের অখণ্ডতা ও জাতীয় সংহতি রক্ষায় নজরুলের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক চেতনা অপরিহার্য।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নীলফামারীর জেলা প্রশাসক জনাব মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, নজরুল চর্চাটা যাতে আমরা অব্যাহত রাখি। উনার সাহিত্য, গান সবকিছু যাতে আমরা আমাদের প্রজন্মকে শেখাই, অত্যন্ত এই নির্যাসটুকু নিয়ে তারা যাতে জীবন গঠন করে। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য উপস্থাপন করেন যমুনা টেলিভিশনের রংপুর ব্যুরো প্রধান ও বৃহত্তর রংপুরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জনাব সরকার মাজহারুল মান্নান।
অঅলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, উপজেলা কৃষি অফিসার লোকমান আলম, উপজেলা জামায়াতের আমীর আব্দুর রশিদ শাহ, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম ডালিম ও জাসাস নেতা সাইফুল ইসলাম।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আরিফুর রহমান উপস্থিতি সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং তরুণ প্রজন্মকে জাতীয় কবির সাহিত্য, সংগীত ও সমাজচেতনার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশ গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, সংবাদকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। সভার শুরুতে অতিথিদের উত্তরীয় পড়ানো হয়।

আপনার মতামত লিখুন