রংপুর নগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইদগাহ পাড়া এলাকায় আবাসিক ভবনে ‘তাকওয়া মাদকাসক্তি মানসিক নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র’ পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্টদের তথ্য যাচাই করে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির প্রয়োজনীয় লাইসেন্স বা অনুমোদন নেই। অথচ অনুমোদন ছাড়াই সেখানে মাদকাসক্ত রোগীদের আবাসিকভাবে রাখা ও চিকিৎসা দেওয়ার কার্যক্রম চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
শিশুদের মানসিক বিকাশ ও এলাকার পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে এলাকাবাসী গত ০৬ই এপ্রিল ২০২৬ ইং তারিখে মাদকদ্রব্য নিরাময় অধিদপ্তর, রংপুর জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক বরাবর অভিযোগ করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, আশেপাশে একদম আবাসিক এলাকায় এই কেন্দ্র দেয়ার পর আমাদের শিশুরা সামনে আর খেলাধূলা করতে পারছে না। এই পয়েন্টের পাশেই নারী ও শিশুরা সবাই মিলে অবকাশ যাপন করত সেটাও করতে পারছি না। বিভিন্ন সময় এখান থেকে চিৎকার চেঁচামেচির শব্দে শিশুরা ভয় পেয়ে যায়। এছাড়াও তিনি উৎকণ্ঠা নিয়ে বলেন, এই বয়স থেকে শিশুরা যদি মাদক সম্পর্কে জানতে পারে, তাহলে এর নেতিবাচক প্রভাব শিশুদের ওপর পড়তে পারে।
শুধু অনুমোদনহীনভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনাই নয়, কেন্দ্রটিতে নিয়মিত চিকিৎসক ও সেবক/সেবিকা না থাকার অভিযোগও পাওয়া গেছে। ফলে মাদকাসক্ত রোগীদের মতো সংবেদনশীল রোগীদের কীভাবে এবং কোন চিকিৎসা ব্যবস্থার আওতায় রাখা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এতে শিশুদের বেড়ে ওঠার পরিবেশ নিয়ে শঙ্কিত এলাকাবাসী।
সরেজমিনে দেখা যায় যে, বর্তমানে সেখানে বিভিন্ন বয়সী ৮ জন মাদকাসক্ত রোগী রয়েছে। রোগীদের সঙ্গে কথা বলে বোঝা যায়, তারা নিরাময় কেন্দ্রের নিয়মানুবর্তিতা মেনে চলার চেষ্টা করে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান।
এ বিষয়ে নিরাময় কেন্দ্রটির পরিচালক মোহাম্মদ পারভেজ বলেন, আমরা দেশের ও দশের সেবা করার উদ্দেশ্যেই এই সেবামূলক প্রতিষ্ঠানটি শুরু করেছি। আমি এবং একজন ভলেন্টিয়ার আমরা ২ জন নিজেরাও একটা সময় নেশাগ্রস্থ ছিলাম, সেখান থেকে ফিরে এসে দ্বীন ও দুনিয়ার জন্য কাজ করার চেষ্টা করছি। এলাবাসীর অভিযোগ অনেকাংশেই মিথ্যা। এখানে যে রোগীগুলো থাকে তাদের আওয়াজ কিংবা শব্দ কোনটি বাইরে বের হওয়ার সুযোগ নেই ফলে আশেপাশের পরিবেশের উপর তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি বললেই চলে। এছাড়াও অনুমোদন প্রসঙ্গে বলেন, অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় সব কাগজ-পত্র জমা দেয়া আছে, কিছুদিনের মধ্যেই আমরা অনুমোদন পেয়ে যাব ইনশাল্লাহ।
উক্ত বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, রংপুরের উপপরিচালক মোঃ আবু জাফর বলেন, নিরাময় কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ সনদের জন্য আবেদন করেছে কিন্তু অনুমতি পাওয়ার মত যোগ্যতার মাপকাঠি পূরণ না করায় অনুমোদন করা হয়নি। তবে তারা মৌখিকভাবে আমাকে কথা দিয়েছে কেন্দ্রটি তারা অন্য জায়গায় স্থানান্তর করবেন এরপর যোগ্যতার মাপকাঠি পূরণ হলে আমরা অনুমোদনের বাকি কার্যক্রম পরিচালনা করব। এছাড়াও যেহেতু স্থানীয়রা চিঠি দিয়ে অভিযোগ করেছেন, সেই বিবেচনায় কেন্দ্রটির পরিচালককে নতুন রোগী ভর্তি করতে এবং নতুনভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে বারণ করা হয়েছে।
রংপুরে বর্তমানে সরকারিভাবে পরিচালিত মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র নেই। তবে বিভাগীয় পর্যায়ে সরকারি মাদক নিরাময় কেন্দ্র স্থাপনের জন্য জমি চিহ্নিত করে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে রংপুরে অনুমোদিত ৮টি বেসরকারি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র রয়েছে, বাকিগুলো অনুমোদনহীন ভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রংপুর নগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইদগাহ পাড়া এলাকায় আবাসিক ভবনে ‘তাকওয়া মাদকাসক্তি মানসিক নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র’ পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্টদের তথ্য যাচাই করে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির প্রয়োজনীয় লাইসেন্স বা অনুমোদন নেই। অথচ অনুমোদন ছাড়াই সেখানে মাদকাসক্ত রোগীদের আবাসিকভাবে রাখা ও চিকিৎসা দেওয়ার কার্যক্রম চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
শিশুদের মানসিক বিকাশ ও এলাকার পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে এলাকাবাসী গত ০৬ই এপ্রিল ২০২৬ ইং তারিখে মাদকদ্রব্য নিরাময় অধিদপ্তর, রংপুর জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক বরাবর অভিযোগ করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, আশেপাশে একদম আবাসিক এলাকায় এই কেন্দ্র দেয়ার পর আমাদের শিশুরা সামনে আর খেলাধূলা করতে পারছে না। এই পয়েন্টের পাশেই নারী ও শিশুরা সবাই মিলে অবকাশ যাপন করত সেটাও করতে পারছি না। বিভিন্ন সময় এখান থেকে চিৎকার চেঁচামেচির শব্দে শিশুরা ভয় পেয়ে যায়। এছাড়াও তিনি উৎকণ্ঠা নিয়ে বলেন, এই বয়স থেকে শিশুরা যদি মাদক সম্পর্কে জানতে পারে, তাহলে এর নেতিবাচক প্রভাব শিশুদের ওপর পড়তে পারে।
শুধু অনুমোদনহীনভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনাই নয়, কেন্দ্রটিতে নিয়মিত চিকিৎসক ও সেবক/সেবিকা না থাকার অভিযোগও পাওয়া গেছে। ফলে মাদকাসক্ত রোগীদের মতো সংবেদনশীল রোগীদের কীভাবে এবং কোন চিকিৎসা ব্যবস্থার আওতায় রাখা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এতে শিশুদের বেড়ে ওঠার পরিবেশ নিয়ে শঙ্কিত এলাকাবাসী।
সরেজমিনে দেখা যায় যে, বর্তমানে সেখানে বিভিন্ন বয়সী ৮ জন মাদকাসক্ত রোগী রয়েছে। রোগীদের সঙ্গে কথা বলে বোঝা যায়, তারা নিরাময় কেন্দ্রের নিয়মানুবর্তিতা মেনে চলার চেষ্টা করে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান।
এ বিষয়ে নিরাময় কেন্দ্রটির পরিচালক মোহাম্মদ পারভেজ বলেন, আমরা দেশের ও দশের সেবা করার উদ্দেশ্যেই এই সেবামূলক প্রতিষ্ঠানটি শুরু করেছি। আমি এবং একজন ভলেন্টিয়ার আমরা ২ জন নিজেরাও একটা সময় নেশাগ্রস্থ ছিলাম, সেখান থেকে ফিরে এসে দ্বীন ও দুনিয়ার জন্য কাজ করার চেষ্টা করছি। এলাবাসীর অভিযোগ অনেকাংশেই মিথ্যা। এখানে যে রোগীগুলো থাকে তাদের আওয়াজ কিংবা শব্দ কোনটি বাইরে বের হওয়ার সুযোগ নেই ফলে আশেপাশের পরিবেশের উপর তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি বললেই চলে। এছাড়াও অনুমোদন প্রসঙ্গে বলেন, অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় সব কাগজ-পত্র জমা দেয়া আছে, কিছুদিনের মধ্যেই আমরা অনুমোদন পেয়ে যাব ইনশাল্লাহ।
উক্ত বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, রংপুরের উপপরিচালক মোঃ আবু জাফর বলেন, নিরাময় কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ সনদের জন্য আবেদন করেছে কিন্তু অনুমতি পাওয়ার মত যোগ্যতার মাপকাঠি পূরণ না করায় অনুমোদন করা হয়নি। তবে তারা মৌখিকভাবে আমাকে কথা দিয়েছে কেন্দ্রটি তারা অন্য জায়গায় স্থানান্তর করবেন এরপর যোগ্যতার মাপকাঠি পূরণ হলে আমরা অনুমোদনের বাকি কার্যক্রম পরিচালনা করব। এছাড়াও যেহেতু স্থানীয়রা চিঠি দিয়ে অভিযোগ করেছেন, সেই বিবেচনায় কেন্দ্রটির পরিচালককে নতুন রোগী ভর্তি করতে এবং নতুনভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে বারণ করা হয়েছে।
রংপুরে বর্তমানে সরকারিভাবে পরিচালিত মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র নেই। তবে বিভাগীয় পর্যায়ে সরকারি মাদক নিরাময় কেন্দ্র স্থাপনের জন্য জমি চিহ্নিত করে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে রংপুরে অনুমোদিত ৮টি বেসরকারি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র রয়েছে, বাকিগুলো অনুমোদনহীন ভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

আপনার মতামত লিখুন