দৈনিক আলাপন

জলঢাকায় হত্যা মামলার পলাতক আসামীদের বসতবাড়ি ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ



জলঢাকায় হত্যা মামলার পলাতক আসামীদের বসতবাড়ি ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

নীলফামারীর জলঢাকায় আলোচিত মকবুল হোসেন হত্যা কান্ডকে কেন্দ্র করে পলাতক আসামীদের ৫টি পরিবারের বসতবাড়ি ভাংচুর, জমিতে লাগানো ধান ও পুকুরের মাছ লুটপাটের ঘটনায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে করেছে আসামীদের আত্মীয় স্বজনরা। এঘটনায় আসামীরা পলাতক থাকায় কোন প্রকার মামলা দায়ের করতে পারেনি কেউ। উপজেলার পূর্ব বালাগ্রাম আদর্শ পাড়ার মতিয়ার রহমান ও মহির উদ্দিনের জমি সংক্রান্তে মামলা মোকদ্দমা চলমান। পূর্ব শত্রুতা এবং গত ১১ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় ছোট বাচ্চাদের শ্যাম্পুর খাম নিয়ে ঝগড়াঝাটির হয়। এতে উভয় পরিবারের মধ্যে ঝগড়াঝাটি ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। পরের দিন ১২ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ৮টায় উভয় পক্ষের মধ্যে দেশীয় ধারালো অস্ত্র, লাঠিসোটা নিয়ে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পক্ষের ১৪/১৫জন লোক গুরুতর জখম ও রক্তাক্ত হলে, আহত ব্যক্তিদের জলঢাকা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে আশংকাজনক ব্যক্তিদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। 

চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হলে মতিয়ার রহমান ও মহির উদ্দিন বাদী হয়ে উভয় পক্ষ জলঢাকা থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করেন। গত ২৩ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ১১টায় মতিয়ার রহমানের দায়ের করা মামলার ১১নং আসামী মকবুল হোসেন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।  এই ঘটনায় জলঢাকা পৌর শহরের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। অপরদিকে হত্যা মামলার পলাতক আসামীদের বসতবাড়ি পাকা স্থাপনা ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। 

বসতবাড়ি ভাংচুর, লুটপাটের ঘটনা ও এলাকার পরিস্থিতি জানতে গত ৭ অক্টোবর সরেজমিনে দেখা যায়, মৃত্যু আব্বাস আলীর ছেলে মতিয়ার রহমান, রশিদুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম ও আনারুল ইসলামসহ তাদের সন্তানদের বসতবাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। নাম না বলা শর্তে স্থানীয় কিছু বাসিন্দা জানায়, দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি হউক এটা আমারাও চাই, কিন্তু তাদের বাড়িঘর ও নির্দোষ ব্যক্তিরা অপরাধ করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকাবাসী বড় আতংকে আছে, আসামী পক্ষের আত্মীয় স্বজনরাও আতংকে আছে, কেউ কিছু বলতে গেলে তাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়। জনশূন্য বসতবাড়িতে লোকজন না থাকায়, আত্মীয় স্বজনদের যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তারা-ও ভয়ে কথা বলতে নারাজ। 


মামলার বাদী মহির উদ্দিন ও পরিবারের লোকজনের কাছে জানতে চাইলে বলেন, মকবুল হোসেনের মৃত্যুর খবর শুনে এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের বাড়িঘর ভাংচুর করেছে কিন্তু লুটপাট করেনি। বাদীর লোকজন আরো জানায়, আসামীরা মকবুল হোসেনের মারা যাওয়ার খবর পেয়ে ওদের প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র নিয়ে আগে পালিয়েছে। 

সাংবাদিক উপস্থিতি জানতে ভয়ে পালিয়ে থাকা মারিয়াম আক্তার নামে একজন ৭ মাসের অন্তঃসত্তা নারী পথিমধ্যে দেখা করে জানায়, আমি কি দোষ করলাম, ৭ মাসের বাচ্চা পেটে নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। আমার স্বামী আবু সাঈদকে আসামি করেছে, সে যদি অপরাধ করে থাকে দেশে আইন আছে শাস্তি। মারিয়াম আক্তার জানায়, মকবুল দাদা মারা যাওয়ার কথা মকবুল দাদার এসে আমাদের বাড়িতে জানিয়ে বিভিন্ন হুমকি-ধামকি দিলে, আমি ছাগলকে ঘাস খাওয়াচ্ছি, এখবর শুনে এক কাপড়ে ছাগল নিয়ে পালিয়েছি। মারিয়াম জানান, পরে জানতে মকবুল দাদার পরিবারের লোকজন আমাদের বসতবাড়িতে ঢুকে কাপড়চোপড়, স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, জমিজমার কাগজপত্র ও ধান-চাল নিয়ে গেছে। আমি ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ও দুই বছরে সন্তান নিয়ে আমি বিপদে আছি, আমার শেষ ঠিকানা বাবার বাড়ি, সেটাও ভাংচুর ও লুটপাট করেছে, ঘটনার দিন বাবা উপস্থিত ছিলেন না বিনা দোষে তিনি জেলহাজতে আছে, আমি আশ্রয় চেয়ে ন্যায় বিচার দাবি করছি। 

আসামী রফিকুল ইসলামের স্ত্রী মিনা বেগম বলেন, আমার স্বামী পলাতক, সন্তানরা ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে, আমি নিজেও আতংকে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। আমার টিন সেটের ঘর ভাংচুর করে মাটিতে ফেলে রেখেছে, পাকা ঘরের দরজা-জানালা ও আসবাবপত্র ভাংচুর করেছে, নগদ অর্থসহ স্বর্ণালংকার, ধানচাল নিয়ে গেছে। এতে ১০/১২ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান মিনা বেগম। তিনি এই ঘটনার সঠিক তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার দাবি করেন। 

এব্যাপারে জানতে চাইলে জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ নাজমুল আলম মুঠোফোনে বলেন, আমি তাদের কাছে শুনেছি মৌখিক ভাবে, আমি তাদেরকে বলেছি লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিবো। এখন পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ দেয় নাই তারপরও আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি।

আপনার মতামত লিখুন

 দৈনিক আলাপন

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


জলঢাকায় হত্যা মামলার পলাতক আসামীদের বসতবাড়ি ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

নীলফামারীর জলঢাকায় আলোচিত মকবুল হোসেন হত্যা কান্ডকে কেন্দ্র করে পলাতক আসামীদের ৫টি পরিবারের বসতবাড়ি ভাংচুর, জমিতে লাগানো ধান ও পুকুরের মাছ লুটপাটের ঘটনায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে করেছে আসামীদের আত্মীয় স্বজনরা। এঘটনায় আসামীরা পলাতক থাকায় কোন প্রকার মামলা দায়ের করতে পারেনি কেউ। উপজেলার পূর্ব বালাগ্রাম আদর্শ পাড়ার মতিয়ার রহমান ও মহির উদ্দিনের জমি সংক্রান্তে মামলা মোকদ্দমা চলমান। পূর্ব শত্রুতা এবং গত ১১ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় ছোট বাচ্চাদের শ্যাম্পুর খাম নিয়ে ঝগড়াঝাটির হয়। এতে উভয় পরিবারের মধ্যে ঝগড়াঝাটি ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। পরের দিন ১২ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ৮টায় উভয় পক্ষের মধ্যে দেশীয় ধারালো অস্ত্র, লাঠিসোটা নিয়ে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পক্ষের ১৪/১৫জন লোক গুরুতর জখম ও রক্তাক্ত হলে, আহত ব্যক্তিদের জলঢাকা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে আশংকাজনক ব্যক্তিদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। 

চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হলে মতিয়ার রহমান ও মহির উদ্দিন বাদী হয়ে উভয় পক্ষ জলঢাকা থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করেন। গত ২৩ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ১১টায় মতিয়ার রহমানের দায়ের করা মামলার ১১নং আসামী মকবুল হোসেন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।  এই ঘটনায় জলঢাকা পৌর শহরের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। অপরদিকে হত্যা মামলার পলাতক আসামীদের বসতবাড়ি পাকা স্থাপনা ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। 

বসতবাড়ি ভাংচুর, লুটপাটের ঘটনা ও এলাকার পরিস্থিতি জানতে গত ৭ অক্টোবর সরেজমিনে দেখা যায়, মৃত্যু আব্বাস আলীর ছেলে মতিয়ার রহমান, রশিদুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম ও আনারুল ইসলামসহ তাদের সন্তানদের বসতবাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। নাম না বলা শর্তে স্থানীয় কিছু বাসিন্দা জানায়, দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি হউক এটা আমারাও চাই, কিন্তু তাদের বাড়িঘর ও নির্দোষ ব্যক্তিরা অপরাধ করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকাবাসী বড় আতংকে আছে, আসামী পক্ষের আত্মীয় স্বজনরাও আতংকে আছে, কেউ কিছু বলতে গেলে তাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়। জনশূন্য বসতবাড়িতে লোকজন না থাকায়, আত্মীয় স্বজনদের যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তারা-ও ভয়ে কথা বলতে নারাজ। 


মামলার বাদী মহির উদ্দিন ও পরিবারের লোকজনের কাছে জানতে চাইলে বলেন, মকবুল হোসেনের মৃত্যুর খবর শুনে এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের বাড়িঘর ভাংচুর করেছে কিন্তু লুটপাট করেনি। বাদীর লোকজন আরো জানায়, আসামীরা মকবুল হোসেনের মারা যাওয়ার খবর পেয়ে ওদের প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র নিয়ে আগে পালিয়েছে। 

সাংবাদিক উপস্থিতি জানতে ভয়ে পালিয়ে থাকা মারিয়াম আক্তার নামে একজন ৭ মাসের অন্তঃসত্তা নারী পথিমধ্যে দেখা করে জানায়, আমি কি দোষ করলাম, ৭ মাসের বাচ্চা পেটে নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। আমার স্বামী আবু সাঈদকে আসামি করেছে, সে যদি অপরাধ করে থাকে দেশে আইন আছে শাস্তি। মারিয়াম আক্তার জানায়, মকবুল দাদা মারা যাওয়ার কথা মকবুল দাদার এসে আমাদের বাড়িতে জানিয়ে বিভিন্ন হুমকি-ধামকি দিলে, আমি ছাগলকে ঘাস খাওয়াচ্ছি, এখবর শুনে এক কাপড়ে ছাগল নিয়ে পালিয়েছি। মারিয়াম জানান, পরে জানতে মকবুল দাদার পরিবারের লোকজন আমাদের বসতবাড়িতে ঢুকে কাপড়চোপড়, স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, জমিজমার কাগজপত্র ও ধান-চাল নিয়ে গেছে। আমি ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ও দুই বছরে সন্তান নিয়ে আমি বিপদে আছি, আমার শেষ ঠিকানা বাবার বাড়ি, সেটাও ভাংচুর ও লুটপাট করেছে, ঘটনার দিন বাবা উপস্থিত ছিলেন না বিনা দোষে তিনি জেলহাজতে আছে, আমি আশ্রয় চেয়ে ন্যায় বিচার দাবি করছি। 

আসামী রফিকুল ইসলামের স্ত্রী মিনা বেগম বলেন, আমার স্বামী পলাতক, সন্তানরা ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে, আমি নিজেও আতংকে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। আমার টিন সেটের ঘর ভাংচুর করে মাটিতে ফেলে রেখেছে, পাকা ঘরের দরজা-জানালা ও আসবাবপত্র ভাংচুর করেছে, নগদ অর্থসহ স্বর্ণালংকার, ধানচাল নিয়ে গেছে। এতে ১০/১২ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান মিনা বেগম। তিনি এই ঘটনার সঠিক তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার দাবি করেন। 

এব্যাপারে জানতে চাইলে জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ নাজমুল আলম মুঠোফোনে বলেন, আমি তাদের কাছে শুনেছি মৌখিক ভাবে, আমি তাদেরকে বলেছি লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিবো। এখন পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ দেয় নাই তারপরও আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি।


 দৈনিক আলাপন

সম্পাদক ও প্রকাশক: আমিনুল হক
নির্বাহী সম্পাদক: কাজী জাহিদ
ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোঃ নুরুন্নবী।

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
জলঢাকায় হত্যা মামলার পলাতক আসামীদের বসতবাড়ি ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ
0:00 / 0:00
1x