দৈনিক আলাপন

চিরিরবন্দরে ঝুঁকিপূর্ণ পোস্ট অফিস, যেকোনো সময় ধসে পড়ার আশঙ্কা

মাটির ঘরে ঘন্টাঘরহাট ডাকঘর



মাটির ঘরে ঘন্টাঘরহাট ডাকঘর

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে স্বাধীনতার আগে স্থাপিত ঘন্টাঘরহাট পোস্ট অফিসটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। জরাজীর্ণ মাটির ঘরটি যেকোনো সময় ধসে পড়ে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলছে পোস্ট অফিসটির কার্যক্রম।

স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় সাতনালা ইউনিয়ন, নশরতপুর ইউনিয়নের বৃহৎ অংশ এবং সাইতাড়া ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষের চিঠিপত্র আদান-প্রদানের একমাত্র ভরসার জায়গা ছিল এই পোস্ট অফিস। তবে দীর্ঘদিন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বর্তমানে এর অবস্থা অত্যন্ত করুণ।

সরেজমিনে দেখা যায়, পোস্ট অফিসের মাটির ঘরের দেয়াল ভেঙে গেছে। দরজা ঘুণে নষ্ট হয়ে গেছে এবং জানালাও নেই। ঝুঁকিপূর্ণ ঘরটি বর্তমানে বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। অফিসের আসবাবপত্র পোস্টমাস্টার নিজের বাড়িতে নিয়ে গেছেন। ফলে অফিসে বসে কার্যক্রম পরিচালনার মতো পরিবেশও নেই।

স্থানীয় আব্দুল মোত্তালেব (৫৯) বলেন, ‘আমরা জন্মের পর থেকেই পোস্ট অফিসটি দেখে আসছি। কিন্তু কখনো কাউকে এর সংস্কারের উদ্যোগ নিতে দেখিনি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা ভূমিকম্প হলে যেকোনো সময় মাটির তৈরি পোস্ট অফিসের ঘরটি ধসে পড়ে প্রাণহানি ঘটতে পারে।’

স্থানীয় আরও কয়েকজন জানান, একসময় এই পোস্ট অফিসে প্রচুর চিঠিপত্র আদান-প্রদান হতো। এখনও চিঠিপত্র আসে। কিন্তু ঘরটির অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করে দ্রুত পোস্ট অফিসটি সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানান তারা।

ঘন্টাঘরহাট শাখা পোস্ট অফিসের পোস্টমাস্টার হবিবর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। পোস্ট অফিসের নিজস্ব কোনো জমি না থাকায় সরকারি উদ্যোগে ভবন নির্মাণ করা হয়নি। বর্তমানে সরকারি কয়েকটি চিঠিপত্র ছাড়া অন্যান্য চিঠিপত্র তেমন না আসায় ভবন নির্মাণের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে না।’

স্থানীয়দের দাবি, পোস্ট অফিসটির ঐতিহ্য ও জনসাধারণের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত একটি নিরাপদ ভবন নির্মাণ করা হোক। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ মাটির ঘরটি অপসারণ করে ডাকসেবা স্বাভাবিক ও নিরাপদ করার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন

 দৈনিক আলাপন

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


মাটির ঘরে ঘন্টাঘরহাট ডাকঘর

প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে স্বাধীনতার আগে স্থাপিত ঘন্টাঘরহাট পোস্ট অফিসটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। জরাজীর্ণ মাটির ঘরটি যেকোনো সময় ধসে পড়ে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলছে পোস্ট অফিসটির কার্যক্রম।

স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় সাতনালা ইউনিয়ন, নশরতপুর ইউনিয়নের বৃহৎ অংশ এবং সাইতাড়া ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষের চিঠিপত্র আদান-প্রদানের একমাত্র ভরসার জায়গা ছিল এই পোস্ট অফিস। তবে দীর্ঘদিন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বর্তমানে এর অবস্থা অত্যন্ত করুণ।

সরেজমিনে দেখা যায়, পোস্ট অফিসের মাটির ঘরের দেয়াল ভেঙে গেছে। দরজা ঘুণে নষ্ট হয়ে গেছে এবং জানালাও নেই। ঝুঁকিপূর্ণ ঘরটি বর্তমানে বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। অফিসের আসবাবপত্র পোস্টমাস্টার নিজের বাড়িতে নিয়ে গেছেন। ফলে অফিসে বসে কার্যক্রম পরিচালনার মতো পরিবেশও নেই।

স্থানীয় আব্দুল মোত্তালেব (৫৯) বলেন, ‘আমরা জন্মের পর থেকেই পোস্ট অফিসটি দেখে আসছি। কিন্তু কখনো কাউকে এর সংস্কারের উদ্যোগ নিতে দেখিনি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা ভূমিকম্প হলে যেকোনো সময় মাটির তৈরি পোস্ট অফিসের ঘরটি ধসে পড়ে প্রাণহানি ঘটতে পারে।’

স্থানীয় আরও কয়েকজন জানান, একসময় এই পোস্ট অফিসে প্রচুর চিঠিপত্র আদান-প্রদান হতো। এখনও চিঠিপত্র আসে। কিন্তু ঘরটির অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করে দ্রুত পোস্ট অফিসটি সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানান তারা।

ঘন্টাঘরহাট শাখা পোস্ট অফিসের পোস্টমাস্টার হবিবর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। পোস্ট অফিসের নিজস্ব কোনো জমি না থাকায় সরকারি উদ্যোগে ভবন নির্মাণ করা হয়নি। বর্তমানে সরকারি কয়েকটি চিঠিপত্র ছাড়া অন্যান্য চিঠিপত্র তেমন না আসায় ভবন নির্মাণের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে না।’

স্থানীয়দের দাবি, পোস্ট অফিসটির ঐতিহ্য ও জনসাধারণের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত একটি নিরাপদ ভবন নির্মাণ করা হোক। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ মাটির ঘরটি অপসারণ করে ডাকসেবা স্বাভাবিক ও নিরাপদ করার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।


 দৈনিক আলাপন

সম্পাদক ও প্রকাশক: আমিনুল হক
নির্বাহী সম্পাদক: কাজী জাহিদ
ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোঃ নুরুন্নবী।

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
মাটির ঘরে ঘন্টাঘরহাট ডাকঘর
0:00 / 0:00
1x