নীলফামারীর জলঢাকায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন একটি সড়ক উন্নয়নকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সড়ক নির্মাণে ময়লা-আবর্জনা ও কাদামাটি মিশ্রিত ইটের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে সরকারি অর্থে নির্মাণাধীন সড়কটির স্থায়িত্ব ও কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজের শুরুতেই নির্ধারিত মানের পরিবর্তে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। খোয়ার সঙ্গে মাটি ও ময়লা-আবর্জনা মিশ্রিত থাকায় তা সরিয়ে ভালো মানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের জন্য ঠিকাদারকে একাধিকবার বলা হলেও তাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় এক বাসিন্দা ছদ্মনাম ‘আব্দুল কাদের’ বলেন, “আমরা একাধিকবার ঠিকাদারকে এভাবে কাজ না করার জন্য নিষেধ করেছি। তারপরও ময়লা-আবর্জনাসহ ইটের খোয়া রাস্তায় দেওয়া হচ্ছে। আমরা কোনো টাকা-পয়সা চাই না, আমরা চাই আমাদের রাস্তাটির কাজ যেন ভালোভাবে হয়।”
অভিযোগের বিষয়ে জলঢাকা উপজেলা প্রকৌশলী মো. তরিকুজ্জামান সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সহকারী প্রকৌশলীকে ফোন করে রাস্তায় দেওয়া ময়লা-আবর্জনাযুক্ত খোয়া তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মো. মজিদ নামে এক ব্যক্তিকে ফোন করে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম না করার জন্য সতর্ক করেন।
পরে বিষয়টি নিয়ে জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপির সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আপনার মাধ্যমে অভিযোগটি পেলাম। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রকল্পের সাইনবোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ‘অবকাঠামোগত দক্ষতা উন্নয়ন ও তথ্যের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সহনশীলতা বৃদ্ধি (প্রভাতী)’ প্রকল্পের আওতায় সড়কটির উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করছে জলঢাকা এলজিইডি। প্রকল্পটিতে বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক তহবিল ইফাদ (IFAD) অর্থায়ন করছে। কাজটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১,৩৪,৫০,৯৩১ টাকা ২৫ পয়সা। নীলফামারী সদরের ঠিকাদার শাহ মো. আনোয়ার হোসেন কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছেন। চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি কাজ শুরু হয়েছে এবং আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নির্মাণাধীন সড়কের বিভিন্ন অংশে ইটের খোয়া ফেলা হয়েছে। এসব খোয়ার সঙ্গে কাদামাটি ও ময়লা-আবর্জনা মিশে থাকার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, নির্মাণকাজের মান নিয়মিত তদারকির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি আরও বাড়ানো প্রয়োজন। তা না হলে সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত সড়কটি নির্ধারিত সময়ের আগেই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এলাকাবাসী দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী অপসারণ এবং প্রকল্পের সিডিউল অনুযায়ী মানসম্মত সামগ্রী ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কাজের প্রতিটি ধাপে কার্যকর তদারকি জোরদারেরও দাবি জানান তারা।

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নীলফামারীর জলঢাকায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন একটি সড়ক উন্নয়নকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সড়ক নির্মাণে ময়লা-আবর্জনা ও কাদামাটি মিশ্রিত ইটের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে সরকারি অর্থে নির্মাণাধীন সড়কটির স্থায়িত্ব ও কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজের শুরুতেই নির্ধারিত মানের পরিবর্তে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। খোয়ার সঙ্গে মাটি ও ময়লা-আবর্জনা মিশ্রিত থাকায় তা সরিয়ে ভালো মানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের জন্য ঠিকাদারকে একাধিকবার বলা হলেও তাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় এক বাসিন্দা ছদ্মনাম ‘আব্দুল কাদের’ বলেন, “আমরা একাধিকবার ঠিকাদারকে এভাবে কাজ না করার জন্য নিষেধ করেছি। তারপরও ময়লা-আবর্জনাসহ ইটের খোয়া রাস্তায় দেওয়া হচ্ছে। আমরা কোনো টাকা-পয়সা চাই না, আমরা চাই আমাদের রাস্তাটির কাজ যেন ভালোভাবে হয়।”
অভিযোগের বিষয়ে জলঢাকা উপজেলা প্রকৌশলী মো. তরিকুজ্জামান সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সহকারী প্রকৌশলীকে ফোন করে রাস্তায় দেওয়া ময়লা-আবর্জনাযুক্ত খোয়া তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মো. মজিদ নামে এক ব্যক্তিকে ফোন করে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম না করার জন্য সতর্ক করেন।
পরে বিষয়টি নিয়ে জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপির সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আপনার মাধ্যমে অভিযোগটি পেলাম। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রকল্পের সাইনবোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ‘অবকাঠামোগত দক্ষতা উন্নয়ন ও তথ্যের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সহনশীলতা বৃদ্ধি (প্রভাতী)’ প্রকল্পের আওতায় সড়কটির উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করছে জলঢাকা এলজিইডি। প্রকল্পটিতে বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক তহবিল ইফাদ (IFAD) অর্থায়ন করছে। কাজটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১,৩৪,৫০,৯৩১ টাকা ২৫ পয়সা। নীলফামারী সদরের ঠিকাদার শাহ মো. আনোয়ার হোসেন কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছেন। চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি কাজ শুরু হয়েছে এবং আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নির্মাণাধীন সড়কের বিভিন্ন অংশে ইটের খোয়া ফেলা হয়েছে। এসব খোয়ার সঙ্গে কাদামাটি ও ময়লা-আবর্জনা মিশে থাকার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, নির্মাণকাজের মান নিয়মিত তদারকির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি আরও বাড়ানো প্রয়োজন। তা না হলে সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত সড়কটি নির্ধারিত সময়ের আগেই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এলাকাবাসী দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী অপসারণ এবং প্রকল্পের সিডিউল অনুযায়ী মানসম্মত সামগ্রী ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কাজের প্রতিটি ধাপে কার্যকর তদারকি জোরদারেরও দাবি জানান তারা।

আপনার মতামত লিখুন