উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি: ||
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় পূজা না হওয়া এবং অন্য উপজেলার মন্দিরের নাম ব্যবহার করে সরকারি জিআর চাল বরাদ্দ ও উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বেতগাড়ী ইউনিয়নের তিনটি পূজামণ্ডপের নামে বরাদ্দ দেওয়া ১ হাজার ৮০০ কেজি চাল নিয়ে এ অভিযোগ সামনে এসেছে। এর মধ্যে একটি মন্দিরের অবস্থান গঙ্গাচড়ায় নয়, রংপুর সদর উপজেলার খলেয়া ইউনিয়নে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মাইদুল ইসলাম ও পূজা উদ্যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার রায়কে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের ১১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের বরাদ্দ তালিকা অনুযায়ী, উপজেলার ২১টি পূজামণ্ডপের প্রতিটিতে ৬০০ কেজি করে মোট ১২ হাজার ৬০০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তালিকায় বেতগাড়ী ইউনিয়নের পুটিমারী পশ্চিমপাড়া দুর্গা মন্দির, পশ্চিম খাপড়িখাল সার্বজনীন কালী মন্দির ও দোন্দোরা সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের নাম রয়েছে। প্রতিটি মন্দিরের নামে ৬০০ কেজি করে মোট ১ হাজার ৮০০ কেজি চাল বরাদ্দ দেখানো হয়েছে।অভিযোগ রয়েছে, দোন্দোরা সার্বজনীন দুর্গাপূজা মন্দিরটি গঙ্গাচড়ার বেতগাড়ী ইউনিয়নে নয়, রংপুর সদর উপজেলার খলেয়া ইউনিয়নে অবস্থিত। অন্যদিকে, বেতগাড়ী ইউনিয়নের পুটিমারী পশ্চিমপাড়া দুর্গা মন্দির ও পশ্চিম খাপড়িখাল সার্বজনীন কালী মন্দিরের সভাপতিরা জানিয়েছেন, তাঁদের মন্দিরে পূজা অনুষ্ঠিত না হলেও বরাদ্দের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।পুটিমারী পশ্চিমপাড়া দুর্গা মন্দিরের সভাপতি স্বাধীন চন্দ্র রায় বলেন, আমি এ ব্যাপারে কিছু জানি না। আমি কোনো স্বাক্ষর করিনি। পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তপন চন্দ্র এসব কাজ করেছেন। পরে জানতে পেরেছি।পশ্চিম খাপড়িখাল সার্বজনীন কালী মন্দিরের সভাপতি পরিমল চন্দ্র রায় বলেন, ২০২৫ সাল থেকে এখানে কোনো পূজা উদ্যাপন করা হয়নি। এবারও হয়নি। কে বা কারা এসব কাজ করেছেন, তাঁদের শাস্তি চাই।স্থানীয় পর্যায়ে পাওয়া এসব বক্তব্যে পূজা আয়োজন, মন্দিরের অবস্থান এবং সরকারি বরাদ্দের তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পূজা অনুষ্ঠিত না হওয়া মন্দিরের নামে বরাদ্দ দেওয়া এবং অন্য উপজেলার মন্দিরের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব নির্ধারণের দাবি উঠেছে।অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে ১৭ অক্টোবর বেলা ১২টার দিকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে পিআইও মাইদুল ইসলামকে পাওয়া যায়নি। পরে তিনি কার্যালয়ে আসেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা কোনো বিষয় না, এগুলো অটোমেটিক ঠিক হবে। তবে কীভাবে বিষয়টি সমাধান করা হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।অন্যদিকে, পূজা উদ্যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার রায় বলেন, এটা ভুল হয়েছে, আমরা ফেরত দেব। তবে চাল ফেরত দেওয়ার বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং কতটুকু চাল ফেরত দেওয়া হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, বিষয়টি জানার পর আমরা পর্যবেক্ষণ করে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। এ বিষয়ে পূজা উদ্যাপন কমিটিকে তলব করা হয়েছে। বরাদ্দ ও চাল উত্তোলনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে কারও অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।