উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ ||
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিটেরই বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্যে দুটি ইউনিট সম্প্রতি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে একটি ইউনিট বন্ধ থাকায় কেন্দ্রটির মোট ৫২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার পুরোটাই এখন অচল। এতে উত্তরাঞ্চলের অন্তত আটটি জেলায় বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিটটি গত ৫ অক্টোবর সকালে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যায়। এর একদিন পর ৬ অক্টোবর ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার তৃতীয় ইউনিটটিও বন্ধ হয়ে যায়। আর ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার দ্বিতীয় ইউনিটটি ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে।ফলে বর্তমানে কেন্দ্রটির তিনটি ইউনিটের কোনোটিই বিদ্যুৎ উৎপাদনে নেই।কেন্দ্রের ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার তৃতীয় ইউনিট থেকে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন ১৬০ থেকে ১৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হতো। ইউনিটটি চালু রাখতে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন কয়লা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হতো।অন্যদিকে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিট থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০ থেকে ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হতো। এ ইউনিটে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার মেট্রিক টন কয়লা ব্যবহার করা হতো।সূত্র জানায়, দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস বন্ধ থাকার পর চলতি বছরের ১৯ মে তৃতীয় ইউনিটটি পুনরায় উৎপাদনে যায়। ইউনিটটি মেরামতে প্রায় ৪ দশমিক ৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৩ কোটি ৮২ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।এদিকে ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে দ্বিতীয় ইউনিটটি প্রায় পাঁচ বছর ১১ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই ইউনিট মেরামতে বিপুল অর্থ ব্যয় হতে পারে। এমনকি মেরামতের সম্ভাব্য ব্যয় দিয়ে নতুন একটি ইউনিট নির্মাণ করা সম্ভব বলেও সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে।কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছিল। সম্প্রতি ইউনিটটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সেটিও বন্ধ হয়ে যায়।বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইউনিটগুলোর যান্ত্রিক ত্রুটি সংস্কারে চীনের হারবিন কোম্পানির প্রকৌশলীরা কাজ করছেন। তবে কবে নাগাদ ইউনিটগুলো পুনরায় চালু হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি।তিনটি ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উত্তরাঞ্চলের আটটি জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে এসব এলাকায় লোডশেডিংয়ের পরিমাণ বেড়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে আমন মৌসুম চলছে। আমন মৌসুম শেষে ইরি-বোরো মৌসুমে সেচের জন্য বিদ্যুতের চাহিদা আরও বেড়ে যাবে। সে সময় পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও ভারী শিল্প-কারখানায় মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।বিশেষ করে শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হলে এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি কৃষিতে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হলে বোরো ধানের উৎপাদনও হুমকির মুখে পড়তে পারে।অভিযোগ রয়েছে, বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইউনিটগুলো সচল রাখতে প্রতিবছর বিপুল অর্থ ব্যয় করা হলেও কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না। নিম্নমানের যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণেও ইউনিটগুলো বারবার বিকল হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।এ বিষয়ে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, “যান্ত্রিক ত্রুটিসহ বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত নিরসনের চেষ্টা করছেন প্রকৌশলীরা। ইউনিটগুলো সচল করতে প্রয়োজনীয় কাজ চলছে।”