উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
দিপক রায়, তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধিঃ ||
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চলছে শিক্ষক সংকট। উপজেলার ৭৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫৫টিতেই নেই নিয়মিত প্রধান শিক্ষক। এসব বিদ্যালয়ের ৩৫টি চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে, আর ২০টি বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করছেন চলতি দায়িত্বের প্রধান শিক্ষক। এর পাশাপাশি সহকারী শিক্ষক পদেও রয়েছে বড় ধরনের ঘাটতি। ফলে নিয়মিত পাঠদান, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও বিদ্যালয় পরিচালনায় বাড়ছে চাপ।তারাগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৭৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের ৫৫টি পদ বর্তমানে শূন্য। গত কয়েক বছরে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আন্তঃউপজেলা বদলি এবং কয়েকজন অবসরজনিত ছুটিতে যাওয়ায় এ শূন্যতা তৈরি হয়েছে। শূন্য পদে স্থায়ী নিয়োগ না হওয়ায় জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ৩৫টি বিদ্যালয়ে। বাকি ২০টি বিদ্যালয়ে চলছে চলতি দায়িত্বের প্রধান শিক্ষক দিয়ে।শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সহকারী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের অতিরিক্ত দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে তাদের ওপর কাজের চাপ বেড়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষক বলেন, প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করলেও সেই অনুপাতে বেতন-ভাতা বাড়েনি। সহকারী শিক্ষকের বেতন-ভাতা নিয়েই অতিরিক্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে তাদের।শুধু প্রধান শিক্ষক নয়, সহকারী শিক্ষক পদেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য সংকট। উপজেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ৭৫টি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ৪০৮টি। এর মধ্যে ৫৭টি পদই বর্তমানে শূন্য। ফলে অনেক বিদ্যালয়ে প্রয়োজনের তুলনায় কম শিক্ষক দিয়ে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।এদিকে দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়াকে কেন্দ্র করে কিছু বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বও তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। এতে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও স্বাভাবিক পরিবেশেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে কাঙ্ক্ষিত মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে একই শিক্ষককে একাধিক শ্রেণির পাঠদান ও অতিরিক্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাতে হলে শিক্ষার মান ধরে রাখা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।তবে সংকট কাটাতে দ্রুত সহকারী শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা শিক্ষা অফিস। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নাগমা সিলভিয়া খান বলেন, খুব শিগগিরই ৩৬ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পাবেন। এতে সহকারী শিক্ষক পদে কিছুটা সংকট নিরসন হবে।প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখন কিছু বলতে পারছি না। প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদগুলোর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠির মাধ্যমে অবগত করা হয়েছে।