উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
রংপুর ব্যুরোঃ ||
রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে শয্যাশয়ী নয় বছরের কন্যাশিশুটি। ঘুম ভেঙে গেলেই মাকে জাপটে ধরে রাখছে, চোখে মুখে ভয় আর আতঙ্ক। শরীরে যন্ত্রণা নিয়ে হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছে শিশুটি। রংপুরের হারাগাছ থানাধীন এক গ্রামে স্থানীয় কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী নয় বছরের শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবার। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক জানিয়েছেন, অসুস্থ অবস্থায় শিশুটি শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে হাসপাতালে ভর্তি হয়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি রাখা হয়েছে।এ ঘটনায় ইমারত হোসেন (৫১) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তি রংপুর মহানগরীর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাহার কাছনা রামগোবিন্দ বালাটারী এলাকার আবুল হোসেন ব্যাপারীর ছেলে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে অভিযুক্ত ইমারত হোসেনকে আদালতে তোলা হলে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন বিচারক। এদিকে আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে স্থানীয় কওমি মাদ্রাসার নয় বছর বয়সী শিশু শিক্ষার্থী মায়ের সাথে প্রতিবেশী চাচীর বাড়িতে যায় । সেখানে মা গল্পে মগ্ন থাকায় শিশু মেয়েটি বাড়ির বাহিরে রাস্তায় বের হয়। রাস্তায় একা পেয়ে মেয়েটিকে ফুসলিয়ে পার্শ্ববর্তী স্থানীয় বাঁশঝাড়ে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে ইমারত আলী। মেয়েটিকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন স্বজনরা। অনেকক্ষণ পর রাস্তায় মেয়েটিকে স্বজনদের কাছে দিয়ে চলে যায় ইমারত। মেয়েটিকে বাড়িতে গিয়ে জানায় তাকে ফুসলিয়ে নিয়ে গিয়ে প্যান্ট খুলে জোরপূর্বক খারাপ কাজ করেছে ওই ব্যক্তি। পরে রাতে অসুস্থ হয়ে পরলে প্রতিবেশীদের সহতায় স্বজনরা ওই শিশুকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে ঘটনা জানাজানি হলে রাতেই ধর্ষক ইমারত হোসেনকে এলাকায় খুঁজতে থাকে প্রতিবেশী লোকজন। টেয়ে পেয়ে ধর্ষক ইমারত হোসেন স্থানীয় এক ব্যক্তির বাড়িতে লুকিয়ে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করে। তবে শেষ পর্যন্ত স্থানীয় ওই বাড়ি ঘিরে ফেলে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার চেষ্টা করে। এসময় উত্তেজিত জনতা তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তরে বাধা দেয় এবং ঘটনাস্থলে বিচারের দাবি তুলে বিক্ষোভ করে। এতে পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিশুটির বাবা জানান, এতটুকু একটা শিশুর ওপর এমন পাশবিক নির্যাতন কোনো মানুষ করতে পারে। ঘটনার পর থেকে ছোট্ট মেয়েটির চোখে মুখে ভয় আর আতঙ্ক। শরীরে যন্ত্রণা নিয়ে হাসপাতালের বেডে রয়েছে শিশুটি। নির্যাতনকারীর শাস্তি দাবি করেন এই বাবা।হারাগাছ থানা পুলিশ জানিয়েছে, রাত সাড়ে ১০ টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবার মাধ্যমে জানতে পেরে থানা পুলিশ সেখান গেলে বিক্ষুব্ধ লোকজন তারা অভিযুক্ত ধর্ষককে নিজ হেফাজতে নিয়ে ঘটনাস্থলে নিজেরাই বিচার করতে মব তৈরি করে। খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা চেষ্ঠা করেন হারাগাছ থানার ওসি। কিন্তু পরিস্থিতি পলিশের নিয়ন্ত্রের বাহিরে চলে গেলে আরপিএমপি গোয়েন্দা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশ সেখানে এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্ঠা করেন। কিন্তু বিক্ষুব্ধ লোকজন আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়। প্রায় সাড়ে তিন ঘন্টা গোয়েন্দা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী ও কোতয়ালী ও হারাগাছ থানার ওসি মিলে উত্তেজিত লোকজনদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। এরপর স্থানীয় ব্যক্তির বাড়িতে লুকিয়ে থাকা অভিযুক্ত ইমারত হোসেনকে মাথায় হেলমেট পড়িয়ে হেফাজতে নিয়ে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।রংপুর মেট্টোপলিটন পুলিশের হারাগাছ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অশোক চৌহান বলেন, এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে ইমারত হোসেনকে আসামি করে মামলা করেছেন। ঘটনার পর শুক্রবার রাতেই অভিযুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।