উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি: ||
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় একই পরিবারের তিন সদস্যকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা। শুক্রবার বিকেল পাঁচটায় উপজেলার বড়বিল মাঝাপাড়া এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।মানববন্ধনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় হামলার ঘটনার প্রতিবাদে বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা। হাতে ব্যানার নিয়ে আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান স্থানীয়রা।ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য পারুল বলেন, ঘটনার পর থেকে আমাদের পরিবার চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। আহত স্বজনদের চিকিৎসা নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় আছি। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের দ্রুত সকল গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।পরিবারের সদস্য রুবেল বলেন, একটি পরিবারের তিনজন মানুষ গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এমন ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা প্রতিশোধ চাই না, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার বিচার চাই।স্থানীয় বাসিন্দা মোজাহিদ বলেন, জমিজমা বা পারিবারিক বিরোধ থাকতেই পারে। কিন্তু বিরোধের জেরে প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। প্রশাসনের উচিত বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা।স্থানীয় শিপন বলেন, এ ঘটনার পর শুধু ভুক্তভোগী পরিবার নয়, আশপাশের মানুষও উদ্বিগ্ন। দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে এলাকায় স্বস্তি ফিরবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকানো সম্ভব হবে।আরেক স্থানীয় বাসিন্দা নূরল্লাহ বলেন, আহতদের অবস্থা দেখে আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। পরে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে বড়বিল মাঝাপাড়া এলাকায় পূর্ববিরোধের জেরে মোঃ মশিউর রহমান, মাহমুদার রহমান ও মনিরা বেগমের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এ সময় ধারালো ছোরা, চাপাতি, বটি, লোহার রড, বাঁশের লাঠি ও কোদালসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে হামলার অভিযোগ করা হয়েছে।এতে মশিউর রহমান ও মাহমুদার রহমানের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এবং মনিরা বেগমের হাতে গুরুতর জখম হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।এ ঘটনায় রায়হান কবির মুন্না বাদী হয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করে এজাহার দিয়েছেন। এজাহারে মাহমুদার রহমানের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।মানববন্ধন থেকে দ্রুত তদন্ত, এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার, আহতদের সুচিকিৎসা এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়।