উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
চিরিরবন্দর সংবাদদাতাঃ ||
দিনাজপুর চিরিরবন্দরে চলতি মৌসুমে বেগুনের বাম্পার ফলন হয়েছে। ভাল দাম পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি। দেশের উত্তরের জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার চাষিরা সাধারণত রবিশস্যের ওপর নির্ভরশীল। উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সরজমিন দেখা গেছে, কোনো জমি আর পতিত নেই। বিস্তর্ণ কৃষকের মাঠে দু’চোখ জুড়ানো সবুজের সমারোহ। নয়ন জুড়ানো দৃশ্য আর বর্ষা মৌসুমেও আগাম জাতের ফসল ফলাতে মেতে উঠেছে কৃষক ও ফসলের মাঠ। এখন মাঠজুড়ে সবুজ রঙে সাজিয়ে তুলেছে প্রকৃতির অপরুপ রুপে। এখন ২ হাজার টাকা থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বেগুনের মণ বিক্রি করছেন স্থানীয়সহ বিভিন্ন এলাকার পাইকারদের কাছে। জেলার অন্য উপজেলার তুলনায় চিরিরবন্দর উপজেলায় বেগুনসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ নশরতপুর, ইছামতি, আলোকডিহি, গছাহার, মহিষমারী, সিংগানগন, দিঘারন, নান্দেরাই, কুতুবডাংগা, খামার সাতনালা, আব্দুলপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে বেগুনসহ সব ধরনের সবজির চাষ ব্যাপক চাষাবাদ হয়। তবে এ বছর খরার মাত্রা বেশি থাকায় বেগুন চাষের পাশাপাশি অন্যান্য ফসলও ব্যাপক চাষাবাদ হয়েছে। দক্ষিণ নশরতপুর এলাকার চাষি রঞ্জন রায়, তিনি এবার ৪২ শতাংশ জমি আগাম বেগুন চাষ করেছেন। প্রতি বছর বেগুন চাষ করে লাভও হয়েছে। এ বছর হঠাৎ করে জ্বালানি তেল, সার কীটনাশক ঔষধসহ শ্রমিকের মজুরি বাড়ায় খরচ দিগুণ হয়েছে। বর্তমানে বেগুনের মণ ২ হাজার টাকা থেকে ১৫০০ বিক্রি হচ্ছে। এদামে পুষিয়ে নেওয়ার পরে লাভ হবে বলে আশা করেন। তার ৪২ শতাংশ জমিতে খরচ হয়েছে প্রায় ১৭ হাজার টাকা। এ পর্যন্ত বেগুন বিক্রি হয়েছে ৪০ হাজারেরও বেশি। আরো ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকার বেগুন বিক্রির আশা করছেন। বেগুন চাষি ফেরেজ তুল্যাহ, মনছুর আলী, আফজালুর রহমান জানান, এবছর আবহাওয়া ভাল থাকায় বেগুনের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে এ বছর কৃষিতে খরচের পরিমাণ বেশি হচ্ছে। প্রতি সপ্তাহে একবার করে স্প্রে করতে হয়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জোহরা সুলতানা জানান, চাষিদের বেগুন চাষে উদ্বুদ্ধ করা ও বিভিন্ন সহযোগিতা দেওয়ায় এ অঞ্চলের চাষিরা বেগুন চাষে ঝুঁকছেন। এ অঞ্চলের মাটি বেগুন চাষের উপযোগী হওয়ায় চলতি খরিপ-১ মৌসুমে প্রায় ১৬ হেক্টর জমিতে বেগুন চাষ করেছে। এ বছর খরার মাত্রা বেশি থাকায় বেগুনের পাশাপাশি উপজেলায় অন্যান্য ফসলও ব্যাপক চাষাবাদ হয়েছে।