উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
দৈনিক আলাপন, নিউজ ডেস্ক ||
রংপুর-দিনাজপুর ও রংপুর-ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় রুটে বাসের সংখ্যা বাড়ানো, সন্ধ্যার পর পর্যাপ্ত বাস চালু এবং যাত্রীসেবার মানোন্নয়নের দাবি জানিয়েছে নীলফামারী জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন। এসব দাবি বাস্তবায়নে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে সংগঠন দুটি।বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় নীলফামারী জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সৈয়দপুর কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন সংগঠন দুটির নেতারা।সাংবাদিক সম্মেলনে পরিবহন নেতারা বলেন, রংপুর-দিনাজপুর রুটে রংপুর ও দিনাজপুরের মালিক সংগঠনগুলোর ২৫টি করে মোট ৫০টি বাস চলাচল করছে। বিপরীতে নীলফামারী জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির বাস রয়েছে মাত্র ১২টি। দীর্ঘদিন ধরে এ সংখ্যা নির্ধারিত থাকায় যাত্রীসংখ্যা বাড়লেও নীলফামারীর বাসের সংখ্যা বাড়েনি।তাদের দাবি, রংপুর-দিনাজপুর রুটের দুই প্রান্ত থেকে নীলফামারী সমিতির অন্তত ১০টি করে মোট ২০টি বাস চলাচলের সুযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে রংপুর-ঠাকুরগাঁও রুটের ঠাকুরগাঁও প্রান্ত থেকেও অন্তত দুটি বাসের সিরিয়াল দিতে হবে।নেতারা বলেন, সৈয়দপুর উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগকেন্দ্র। রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়সহ বিভিন্ন জেলার মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। সৈয়দপুরে শিল্পকারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করেন। ফলে বিদ্যমান বাসসংখ্যা দিয়ে যাত্রীচাহিদা পূরণ হচ্ছে না।সাংবাদিক সম্মেলনে সন্ধ্যার পর রংপুর ও দিনাজপুর থেকে সৈয়দপুরগামী যাত্রীদের দুর্ভোগের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। পরিবহন নেতাদের অভিযোগ, রংপুর মেডিকেল মোড় থেকে রাত ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সৈয়দপুর, ওয়াপদামোড় ও রাণীরবন্দরগামী যাত্রীরা পর্যাপ্ত আসন পান না। একইভাবে দিনাজপুর থেকেও সন্ধ্যার পর সৈয়দপুরগামী বাসের সংকট দেখা দেয়।এতে অনেক যাত্রীকে অটোরিকশা, সিএনজিসহ ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনে একাধিকবার যান পরিবর্তন করে গন্তব্যে যেতে হয়। একই সঙ্গে নির্ধারিত ট্রিপের বাইরে অতিরিক্ত ভাড়ায় যাত্রী পরিবহনের অভিযোগও করেন তারা। এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ করে রাতেও নিয়মিত বাস চলাচলের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়।সৈয়দপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের বেহাল অবস্থার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন পরিবহন নেতারা। তাদের অভিযোগ, মহাসড়কের তুলনায় টার্মিনালটি প্রায় ৩ থেকে ৪ ফুট নিচু হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। এতে যাত্রীদের চলাচল ও বাসে ওঠানামায় দুর্ভোগের পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।এ ছাড়া বন্ধ থাকা সৈয়দপুর-রাজশাহী রুটের ‘মানিক’ এবং নীলফামারী-সৈয়দপুর-বগুড়া রুটের ‘জনতা মানিক’ বাস পুনরায় চালু, নীলফামারী ও সৈয়দপুর থেকে সিরাজগঞ্জ-শাহজাদপুর-পাবনা রুটে বাস চলাচলে বাধা দূর এবং মহাসড়কে অবৈধ অটোরিকশা-সিএনজির চলাচল নিয়ন্ত্রণের দাবিও জানানো হয়।পরিবহন নেতারা আরও বলেন, এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট মালিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা ও সভার উদ্যোগ নেওয়া হলেও কার্যকর সমাধান হয়নি। তবে ঠাকুরগাঁও মালিক সমিতি এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে বলে জানান তারা।তাদের দাবি, যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে বাসের সংখ্যা ও রুটভিত্তিক সিরিয়াম বৈষম্য দূর করা জরুরি। বিষয়গুলো আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সমাধানে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মালিক সংগঠনগুলোকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।অন্যথায় রংপুর-দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও রুটে বাস চলাচলে কোনো ধরনের বিঘ্ন বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তার দায় নীলফামারী জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন নেবে না বলে সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়।সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য দেন নীলফামারী জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল হক সরকার, সিনিয়র সহসভাপতি আনোয়ারুল হাফিজ, সড়ক সম্পাদক মোস্তফা কামাল, সহসাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম মজনু ও সাংগঠনিক সম্পাদক আরমান হামিদ। এ সময় নীলফামারী জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী ও সহসভাপতি মোফাখার আলী স্বপনসহ সংগঠন দুটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।